শিরোনাম

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে বিশ্বনেতাদের বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া ছবি খুব সহজেই তৈরি করা সম্ভব—একটি নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনীতিককে দণ্ডিত যৌন অপরাধী এপস্টাইনের সঙ্গে মিথ্যাভাবে যুক্ত করে তৈরি করা ছবির বিস্তার ঘটার পর এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, এএফপির ফ্যাক্ট-চেকাররা এর আগে জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন এআই-নির্মিত ছবি ছড়ানো হয়েছে, যেখানে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও তার মা, পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের সঙ্গে এপস্টাইনকে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
নতুন গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা নিউজগার্ড তিনটি শীর্ষস্থানীয় ইমেজ জেনারেটরকে নির্দেশ দেয়- এপস্টাইনের সঙ্গে পাঁচজন রাজনীতিকের ছবি তৈরি করতে। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ছিলেন।
গবেষণায় বলা হয়, ইলন মাস্কের এক্সএআই প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘গ্রোক ইম্যাজিন’ টুলটি পাঁচজনের ক্ষেত্রেই ‘সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া ছবি’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছবিতে কম বয়সী ট্রাম্প ও এপস্টাইনকে কিছু তরুণীর সঙ্গে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত হলেও ভুয়া।
ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টাইনের একাধিক সামাজিক অনুষ্ঠানে তোলা ছবি রয়েছে, তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের উপস্থিতিতে তাদের কোনো ছবি প্রকাশ্যে নেই।
গবেষণা অনুযায়ী, গুগলের জেমিনি ট্রাম্প ও এপস্টাইনের ছবি তৈরি করতে অস্বীকৃতি জানালেও অন্য চারজন নেতার—নেতানিয়াহু, মাক্রোঁ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এপস্টাইনের বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করেছে। এসব ছবিতে তাদের পার্টি, ব্যক্তিগত জেট বা সমুদ্রসৈকতে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
নিউজগার্ড বলেছে, এই ফলাফল দেখায় যে ‘অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিরা এআই ইমেজিং টুল ব্যবহার করে খুব সহজেই বাস্তবসম্মত ভাইরাল ভুয়া ছবি তৈরি করতে পারে এবং এখন ভুয়া ছবি এত বেশি হয়ে গেছে যে আসল ও এআই-নির্মিত ছবির পার্থক্য করা কঠিন হয়ে উঠছে।’
ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটিকে একই ধরনের অনুরোধ জানানো হলে সেটি কোনো ছবি তৈরি করতে অস্বীকৃতি জানায়। জবাবে বলা হয়, বাস্তব ব্যক্তিকে জড়িয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নের ইঙ্গিতবাহী বা সংশ্লিষ্ট কোনো ছবি তৈরি করা সম্ভব নয়।
মামদানি ও মীরা নায়ারের সঙ্গে এপস্টাইনের যে ভুয়া ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে এএফপিসহ গবেষকেরা ‘সিন্থআইডি’ নামে একটি অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেন, যা গুগলের এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
গুগলের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘গুগল এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করা সহজ করতে আমরা এতে অদৃশ্য সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক সংযুক্ত করি।’
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টাইন-সংক্রান্ত সর্বশেষ নথিপত্র প্রকাশের পর এই গবেষণা সামনে আসে। তিন মিলিয়নের (৩০ লাখের) বেশি দলিল, ছবি ও ভিডিও ওই তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানানো হয়। ২০১৯ সালে কারাগারে থাকাকালে আত্মহত্যা করেছেন বলে নির্ধারিত হয় এপস্টাইনের মৃত্যু।
এপস্টাইন কাণ্ডে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি—ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু, মার্কিন চিন্তাবিদ নোম চমস্কি এবং নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট আলোচনায় জড়িয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে এটি ভ্রান্ত তথ্যের ঢেউও তৈরি করেছে।
এ সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের নামে একটি ভুয়া পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে বলে এএফপির ফ্যাক্ট-চেকাররা জানান। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর সব শুল্ক তুলে নেবে—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তদন্তে দেখা গেছে।