শিরোনাম

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া শুক্রবার একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও নতুন সামরিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ার পথ খোলার প্রতিশ্রুতি দেয়।
জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিরক্ষা উদ্যোগের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে একজন সিনিয়র ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া ইন্দোনেশিয়ার যৌথ মহড়ার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ সুবিধা উন্নয়নে সহায়তা করবে।
ক্যানবেরা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় নিজের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে চায়।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া তার পররাষ্ট্র নীতিতে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করে। তারা চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, কারণ চীন তাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
আলবানিজ চুক্তিটিকে তার দেশের সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক সীমান্তের একটি আছে, যা আমাদের স্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ অংশীদার বানায়। কিন্তু আজ আমরা শুধু অংশীদার নই, আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু।’
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোভো সুবিয়ান্তো বলেন, নতুন চুক্তিটি ‘সু-প্রতিবেশী নীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার’ এবং ইন্দোনেশিয়ার ‘স্বাধীন ও সক্রিয়’ পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই চুক্তি আমাদের অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি হবে।’
আলবানিজ তার পঞ্চম সরকারি সফরে জাকার্তায় অবস্থান করছেন, যা শনিবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি চুক্তিটিকে তাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বড় সম্প্রসারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের প্রশংসা করেছেন।
চুক্তিটি ২০২৪ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে তৈরি, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই চুক্তির কয়েক মাস পরে ইন্দোনেশিয়ার ও অস্ট্রেলিয়ার হাজার হাজার সেনা পূর্ব জাভায় যৌথ মহড়া পরিচালনা করেছিল।