শিরোনাম

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ধীরে ধীরে সম্পর্ক পুনরায় শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের নতুন প্রধান শনিবার ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বোগোটা থেকে আসা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লরা ডোগুকে বহনকারী বিমানটি স্থানীয় সময় বিকাল প্রায় ৩টা নাগাদ কারাকাসের বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
নিকোয়ারাগুয়া ও হন্ডুরাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত লরা ডোগুকে গত সপ্তাহে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত না থাকলে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সই কূটনৈতিক মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দূতাবাসের অবস্থা মূল্যায়নে একটি মিশন পাঠিয়েছে। গত ছয় বছর ধরে দূতাবাসটি মূলত কার্যত শূন্য অবস্থায় ছিল।
২০১৯ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের পর ওয়াশিংটন ও অন্যান্য প্রধান শক্তি মাদুরোকে অবৈধ ঘোষণা করার কিছুদিনের মধ্যেই দূতাবাসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর মাদুরো ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে এবং মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এখন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করছেন এবং মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে থাকতে দিয়েছেন, শর্ত হলো তিনি ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে চলবেন, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে।
২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসটি হাতে গোনা কয়েকজন স্থানীয় কর্মী ছাড়া প্রায় পরিত্যক্ত ছিল। তবে গত বছর থেকে ভেনেজুয়েলার জন্য নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন ম্যাকনামারা- ডোগুর পূর্বসূরি- প্রতিবেশী কলম্বিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক দিন পর ম্যাকনামারা অন্যান্য মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে কারাকাস সফর করেন, দূতাবাসে ‘ধাপে ধাপে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা’ মূল্যায়নের জন্য।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি রদ্রিগেজের সঙ্গে ‘খুব ভালোভাবে’ কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রদ্রিগেজ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।
তবে ট্রাম্প একই সঙ্গে রদ্রিগেজকে সতর্ক করে বলেছেন, নীতিগত সংস্কার ও তেলে প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মার্কিন দাবিতে সাড়া না দিলে তার পরিণতি মাদুরোর চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে- এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রমাণিত তেল মজুদের দিক থেকে ভেনেজুয়েলা বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে।