শিরোনাম

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. নবী উল্লা বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে এলাকার দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে গ্যাস ও পানি সংকট, পরিবেশ দূষণ, যানজট, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যসহ সব সমস্যা সমাধানে তিনি কাজ করবেন।
নবী উল্লা বলেন, বিগত দিনে এই আসনে যারা সংসদ সদস্য ছিলেন তারা কোনো উল্লেখযোগ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেননি। পর্যাপ্ত হাসপাতাল, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, খেলাধুলার মাঠ কিংবা শিশু পার্ক; কোনোটিই নেই।
তিনি বলেন, ‘অল্প বৃষ্টিতেই ঢাকা-৫ আসনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতার পর আজ পর্যন্ত এর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।’
তবে বাস্তবতা তুলে ধরে বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিন সরকারি প্রতিষ্ঠান না থাকায় এখন নতুন করে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সময় লাগবে। সাবেক সংসদ সদস্যরা যদি অন্তত দু’টি করে সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেন, তাহলে আজ এলাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। এখন এসব বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে।’
ফ্লাইওভার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় যে ফ্লাইওভার রয়েছে, সেখানে ডেমরা, মাতুয়াইল ও যাত্রাবাড়ীবাসীর ওঠানামার কোনো ব্যবস্থা নেই। অথচ এই এলাকা দেশের পূর্বাঞ্চলের রাজধানী গেট হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই প্রবেশপথে কোনো সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়নি। বিশ্বের অন্যান্য রাজধানীর প্রবেশপথগুলো সুন্দর হলেও আমাদের রাজধানীর গেট নেই বললেই চলে।
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকায় নতুন করে গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে জনগণের প্রধান দাবি গ্যাস ও পানির সংকট নিরসন। ঢাকার পাশের এই এলাকার মানুষ ঠিকভাবে গ্যাস ও পানি পাচ্ছে না। এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আপাতত দ্রুত সমাধানের সুযোগ না থাকলেও ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব বাস্তব সমস্যার সমাধান করা হবে।’
পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে নবী উল্লা বলেন, ‘রাজধানীর গেট হওয়া সত্ত্বেও যাত্রাবাড়ী এলাকা একটি ময়লা ও গার্বেজ শহরে পরিণত হয়েছে। ঢাকা শহরের অধিকাংশ বর্জ্য এই এলাকায় ফেলা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো এখানে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। আমি নির্বাচিত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষা ও যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করব।’
যানজট সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় বর্তমানে যানজট ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দেশের ছয়টি বিভাগের যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় যানজট দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে মাদক কারবারিরাও অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে।
নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস, মাদক ও ছিনতাই চিরতরে নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
কিশোর অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় খেলাধুলার মাঠ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অপ্রতুলতার কারণে অনেক কিশোর বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে খেলাধুলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে নবী উল্লা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি ঘোষণার পর থেকেই আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। সামান্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করেও কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না। তাই নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা মেনেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রয়েছে। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা সে অনুযায়ী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নবী উল্লা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি এবং জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু ও সমান সুযোগের (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নির্বাচন উপহার দেবে এবং তা সারা বিশ্বকে চমকে দেবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ঢাকা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৫৪১ জন ভোটার। এই আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০টি।
এই আসনে মো. নবী উল্লার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা), বাংলাদেশ লেবার পার্টি’র মো. গোলাম আজম (আনারস), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-এর মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি), বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর মো. সাইফুল আলম (ডাব), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র মো. হুমায়ুন কবির (ছাতা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক)।