শিরোনাম

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট শুক্রবার দেশে একটি গণ-সাধারণ ক্ষমা আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, এটি তার সর্বশেষ বড় সংস্কার উদ্যোগ।
কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টে শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, তিনি একটি ‘সাধারণ ক্ষমা আইন প্রস্তাব করবেন, যা ১৯৯৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চলা রাজনৈতিক সহিংসতার সব ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
১৯৯৯ সালে বামপন্থী বিপ্লবী নেতা হুগো চাভেজ ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় বসেন। ২০১৩ সালে তার মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরো দেশটির শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘এই আইন রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষত সারাতে সহায়ক হবে। সহিংসতা ও চরমপন্থায় ক্ষতিগ্রস্ত বিচারব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবে। এর মাধ্যমে দেশে সুশাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’ একইসঙ্গে তিনি বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি ‘জাতীয় সংলাপ’ শুরুর ঘোষণাও দেন।
এ সময় তিনি কারাকাসের কুখ্যাত ‘এল হেলিকোয়েড’ কারাগারটি বন্ধ করারও ঘোষণা দেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, মাদুরোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই কারাগারে রাজনৈতিক বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালাত। বিশাল এই স্থাপনাটি মূলত শপিং মল হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল।
রদ্রিগেজ জানান, এটিকে এখন পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ‘ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে’ রূপান্তর করা হবে।
৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ আগে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ক্ষমতায় আসার চার সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি ভেনেজুয়েলার সমাজব্যবস্থায় মার্কিন প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাপক পরিবর্তন আনছেন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ইতোমধ্যেই রদ্রিগেজ তার ভাই এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজের সহায়তায় একটি নতুন আইন পাস করেছেন। এর ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের একটি প্রধান দাবি ছিল। এই আইনের পরপরই গত বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৮ জানুয়ারি এক মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে একমত হয় বর্তমান সরকার। তবে মুক্তির সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী গত বছর থেকে ৮০০ জনের বেশি মুক্তি পেলেও, মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’ বলছে ডিসেম্বরের পর থেকে ৪০০ জনের কম এবং ৮ জানুয়ারির ঘোষণার পর ৩০০ জনেরও কম বন্দী মুক্তি পেয়েছেন।
বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো শুক্রবার বলেন, রদ্রিগেজের সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব কেবল ওয়াশিংটনের চাপের কারণেই এসেছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘এটি সরকারের স্বেচ্ছায় করা কোনো কাজ নয়, বরং মার্কিন সরকারের চাপের প্রতিক্রিয়া। আমি আশা করি, বন্দীরা দ্রুতই তাদের পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন।’
তিন সপ্তাহ ধরে কারাগারের বাইরে স্বজনদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে, দেশটিতে আটক থাকা সব মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কারাকাসের মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, ‘অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ সব আমেরিকান বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে।’
পেরুভিয়ান-আমেরিকান রাজনৈতিক বন্দী আর্তুরো গ্যালিনো রুলিয়ারকে মুক্তির কয়েক ঘণ্টা পর এই ঘোষণা আসে।
‘ফোরো পেনাল’-এর গঞ্জালো হিমিয়ব জানান, গ্যালিনোকে গত নভেম্বরে অনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছেন।
বিগত কয়েক বছর ধরে ভেনেজুয়েলা রুটিনমাফিক বিদেশি ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গুপ্তচরবৃত্তি বা হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করত। বিদেশি সরকারগুলো সবসময়ই এই অভিযোগগুলোকে বানোয়াট এবং গ্রেপ্তারগুলো ছিল অনেকটা জিম্মি করার মতো।
ভেনেজুয়েলার নতুন প্রশাসনের ওপর ট্রাম্পের সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘ কয়েক বছর মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকার পর, ওয়াশিংটন কারাকাসে পুনরায় কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। অভিজ্ঞ কূটনীতিক লরা ডগ্লুকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শনিবার তার কারাকাস পৌঁছানোর কথা রয়েছে।