বাসস
  ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৬

‘মেলানিয়া’ তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে ট্রাম্প দম্পতি 

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার রাতে মেলানিয়ার নতুন তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে অংশ নেন। 

এই ছবি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার নেপথ্য চিত্র তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। 

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

‘মেলানিয়া’ শিরোনামের এই তথ্যচিত্রটি অ্যামাজনের সঙ্গে এক ব্যতিক্রমী মাল্টিমিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে নির্মিত। 

ওয়াশিংটনের সদ্য পুনর্নামকরণ করা ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারে লালগালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে এর প্রদর্শনী হয়।
অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে হাত ধরে উপস্থিত হয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, ছবিটি ‘গ্ল্যামারাস! খুবই গ্ল্যামারাস।’ 

মেলানিয়া ট্রাম্পের এই তথ্যচিত্রে তার স্বামীর দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেকের আগের ২০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে। 

সবকিছু দেখানো হয়েছে স্লোভেনিয়ায় জন্ম নেওয়া ৫৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেডির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

তবে ছবিটির টিকিট বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম। এমন খবরে অ্যামাজনের দেওয়া বিপুল অর্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রযুক্তি জায়ান্ট হয়তো প্রেসিডেন্টের অনুকম্পা পেতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, কূটনৈতিক দূত স্টিভ উইটকফ, স্বাস্থ্য মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে মেলানিয়া ট্রাম্পকে ঘিরে এক ধরনের রহস্য বিরাজ করছে। 

তিনি বেশিরভাগ সময় নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় তাদের ছেলে ব্যারনের সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করেন।

মেলানিয়া বলেন, শুক্রবার বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে যাওয়া এবং পরে একচেটিয়াভাবে অ্যামাজন প্রাইমে দেখানো হবে। এই চলচ্চিত্র মানুষকে তার অজানা দিকের সঙ্গে পরিচিত করবে।

বুধবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ দেখবে আমি কীভাবে কাজ করি, আমি কে, কীভাবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে একটু বেশি জানতে পারবে।’

ডিসেম্বরে প্রকাশিত তথ্যচিত্রের এক ঝলকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে স্বামীর দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার ঠিক আগে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মেলানিয়া বলছেন, ‘আবার শুরু।’

শনিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প দম্পতি ছবিটির একটি ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর আয়োজন করেন।  

আয়োজনটি করা হয় মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে বিক্ষোভকারী অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর। 

প্রেট্টির মৃত্যুর ওই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

এই সপ্তাহে ছবির প্রচারণায় দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে মিনিয়াপোলিসের ঘটনার পর ঐক্যর আহ্বান জানান মেলানিয়া ট্রাম্প।

-‘অবশ্যই দেখার মতো’-
নিজের জীবনকে অসাধারণভাবে’ তুলে ধরার দাবি করা হলেও, ‘মেলানিয়া’ গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী অভিজাতরা কীভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে, তারও একটি চিত্র হাজির করেছে।

অ্যামাজনের কর্তা জেফ বেজোস ট্রাম্পের সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। তিনি অভিষেকে সামনের সারির আসন নিশ্চিত করেন এবং নিজের মালিকানাধীন ওয়াশিংটন পোস্টকে ব্যবসা-বান্ধব সম্পাদকীয় প্রকাশে উৎসাহিত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ‘মেলানিয়া’ চলচ্চিত্রের জন্য অ্যামাজনের ৪ কোটি ডলারের লাইসেন্সিং চুক্তির ৭০ শতাংশ পাবেন মেলানিয়া ট্রাম্প। তিনি ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ডিজনি নাকি মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রস্তাব করেছিল।

এর বাইরে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড ও প্রিমিয়ারের সঙ্গে একযোগে ২৫টি হলে প্রদর্শনীসহ প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলারের প্রচারণা ব্যয় বহন করেছে অ্যামাজন।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যামাজনের সাবেক চলচ্চিত্র নির্বাহী টেড হোপ বলেন, ‘এটিকে তোষামোদ বা সরাসরি ঘুষ বলা ছাড়া উপায় কী?’

বিলিয়নিয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে— প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তার পরিবারের সদস্যরা লাভজনক চুক্তি করে যাচ্ছেন। 

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য হলো, ট্রাম্প আগে থেকেই ধনী এবং প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তিনি কোনো অর্থ আয় করেন না।

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মেলানিয়া’ অবশ্যই দেখার মতো।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি ও এর প্রচারণা নিয়ে ব্যাপক বিদ্রূপ চলছে। 

অনেক ব্যবহারকারী এমন সিনেমা হলের ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে কোনো টিকিটই বিক্রি হয়নি।