শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইতালিতে ২০২৩ সালে সংঘটিত অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহন করা এক মর্মান্তিক জাহাজ ডুবির ঘটনায় শুক্রবার অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ছয় সদস্যের বিচার শুরু হচ্ছে।
তাদের বিরুদ্ধে সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দক্ষিণ ইতালির কালাব্রিয়া উপকূলে ওই দুর্ঘটনাটি ছিল গত এক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ।
এতে উত্তর আফ্রিকা থেকে নৌপথে আসা হাজারো অভিবাসীর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যটন শহর কুত্রোর উপকূলের পাথরে আছড়ে পড়ে নৌকাটি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ৩৫ জন ছিল শিশু।
নিকটবর্তী ক্রোটোনে শহরে ইতালির গার্দিয়া দি ফিনানজা (জিডিএফ) আর্থিক অপরাধ দমন পুলিশের চার কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ডের দুই সদস্যের বিচার চলছে।
তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও দায়সাপেক্ষ জাহাজ ডুবির অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতালির দণ্ডবিধিতে এই অপরাধের মাধ্যমে অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ফলে জাহাজ ডুবির জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকাটি তুরস্ক থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এতে আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তান ও সিরিয়ার নাগরিক ছিলেন। এই ঘটনায় প্রায় ৮০ জন প্রাণে বেঁচে যান।
দুর্ঘটনার পর, সৈকতে ভেসে আসে বহু লাশ। পরে কাছের একটি ক্রীড়া হলে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বাদামি রঙের ও শিশুদের জন্য সাদা কফিন রাখা হয়।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই নৌডুবিতে আরও অনেকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের লাশগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
-‘অবহেলার অভিযোগে কাঠগড়ায় কর্মকর্তারা’-
ঘটনাটি এমন একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে জড়িত, যা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবায়িতই হয়নি— যদিও নৌকাটিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ট্র্যাক করা হচ্ছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান ইতালির উপকূল থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে বিপদগ্রস্ত নৌকাটিকে শনাক্ত করে।
সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ইতালীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
এরপর ইতালির জিডিএফ পুলিশের একটি নৌযান পাঠানো হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি মাঝপথ থেকেই ফিরে আসে।
শেষ পর্যন্ত অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকাটি সৈকতের কাছে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, পুলিশ উপকূলরক্ষীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরাও পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেননি, যা পরিস্থিতির জরুরি গুরুত্ব তাদের সামনে স্পষ্ট করতে পারত।