শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কিউবাকে তেল বিক্রি করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে বৃহস্পতিবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এতে কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপদেশটির ওপর অব্যাহত চাপ আরও বেড়ে গেছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এই নির্বাহী আদেশে শুল্কের হার কত হবে বা কোন কোন দেশ এর আওতায় পড়বে— তা স্পষ্ট করা হয়নি। এ সব সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
১৯৬২ সাল থেকে কিউবা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের মধ্যে রয়েছে।
এখন পর্যন্ত দেশটির বেশির ভাগ তেল আসত ভেনেজুয়েলা থেকে।
তবে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল রফতানির কার্যত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়।
ভেনেজুয়েলা অভিযান শেষে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কিউবায় যাওয়া তেল ও অর্থ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমি জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, সময় শেষ হওয়ার আগেই তারা যেন একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।’
তবে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের চুক্তি চায়— এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনও নীরব।
বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই পদক্ষেপকে ‘কিউবা ও তার জনগণের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, ‘৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কিউবা ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ ও নিষ্ঠুর অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার।’
বৃহস্পতিবার সই হওয়া আদেশে বলা হয়েছে, যে কোনো দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কিউবাকে তেল বিক্রি করলে বা সরবরাহ করলে, তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
এই আদেশে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) প্রয়োগ করা হয়েছে।
এতে কিউবা সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
আইইইপি’র আওতায় আরোপ করা অন্যান্য শুল্ক ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
কিউবাকে ঘিরে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার মতোই অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী দেশগুলোর সহায়তা করছে।
আদেশে বলা হয়, ‘এই শাসকগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী বহু দেশের সঙ্গে জোট বেঁধেছে এবং তাদের সহায়তা দিচ্ছে।’
এর মধ্যে রাশিয়া, চীন ও ইরানের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও হিজবুল্লাহর নামও উল্লেখ করা হয়।
এই চাপ এমন এক সময়ে এলো, যখন কিউবা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। প্রতিদিন ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি দেশটিতে ব্যাপক জনপলায়নের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো কিউবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। তবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের চাপের মুখে এই সরবরাহ কমতে পারে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এ সব প্রতিবেদন নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি।
তবে তিনি বলেন, মেক্সিকো কিউবার প্রতি ‘সংহতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখবে।’