বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৭

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরের প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো টেক্সাসে। সাবেক প্রেমিকা ও তার প্রেমিককে হত্যার দায়ে দণ্ডিত চার্লস থম্পসনের মৃত্যুদণ্ড বুধবার প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

হিউস্টন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

৫৫ বছর বয়সী থম্পসনকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে হান্টসভিলের একটি কারাগারে মৃত ঘোষণা করে টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল জাস্টিস।

১৯৯৮ সালে হিউস্টনের উপশহরে সাবেক প্রেমিকা ডেনিস হেইসলিপ (৩৯) ও তার প্রেমিক ড্যারেন কেইন (৩০)-কে গুলি করে হত্যা করেন থম্পসন। ঘটনাস্থলেই মারা যান কেইন। 

হেইসলিপ এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান।

হেইসলিপের প্রথম স্বামী থেকে জন্ম নেওয়া ছেলে ওয়েড হেইসলিপ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। 

যখন তার মা খুন হন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

ইউএসএ টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়েড বলেন, থম্পসনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াটা ‘একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেই নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় আছি।’

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এটি ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ সংখ্যা। 

ওই বছর ৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

২০২৫ সালে সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ফ্লোরিডায়—১৯ জন। এরপর আলাবামা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসে পাঁচ জন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

গত বছর প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরা করা হয়। 

বাকীদের মধ্যে তিন জনকে গুলি করে এবং নাইট্রোজেন হাইপক্সিয়া পদ্ধতির মাধ্যমে পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। 

এ পদ্ধতিতে মুখে মাস্ক লাগিয়ে নাইট্রোজেন গ্যাস ঢোকানো হয়, ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের মৃত্যুদণ্ডকে নিষ্ঠুর ও অমানবিক বলে এর নিন্দা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টিতে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে। আরও তিনটি অঙ্গরাজ্য— ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও পেনসিলভানিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ডের কট্টর সমর্থক। 

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের জন্য’ এর ব্যবহার আরও বাড়ানো উচিত।