শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অস্ট্রেলিয়া যদি জোরপূর্বক উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত ডারউইন বন্দরের পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেয়, তবে চীনা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূত।
সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া যদি ডারউইন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ জোর করে ফিরিয়ে নেয়, তবে নিজেদের কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রদূত।
চীনের ল্যান্ডব্রিজ গ্রুপ ২০১৫ সালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অস্ট্রেলিয়ার এ বন্দর ৯৯ বছরের জন্য লিজ বা ইজারা নেয়।
এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তীতে অবকাঠামো বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হয়।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ গত বছর বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘অদূরদর্শীসম্পন্ন’।
রাষ্ট্রদূত শিয়াও কিয়ান বুধবার অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদি ল্যান্ডব্রিজকে লিজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়, তবে চীনা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের দায়িত্ব এবং এটাই আমাদের অবস্থান।’
তিনি আরও বলেন, ‘চীনা সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে এবং আমাদের কোম্পানির বৈধ স্বার্থ রক্ষা করতে কখন কথা বলতে হবে বা কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা সময় এলেই আমরা দেখব।’
এ সময় রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেন, বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ফেরত নেওয়া হলে ডারউইন অঞ্চলে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ, সহযোগিতা ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।’
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ-অস্ট্রেলীয় কোনো পক্ষের কাছে এই বন্দর বিক্রির বিপক্ষে তার সরকার ইতোমধ্যে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।
বুধবার পূর্ব তিমুর সফরকালে সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, ‘আমরা এই বন্দরটিকে আবারও অস্ট্রেলিয়ার হাতে ফিরিয়ে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ এটি আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।’
ডারউইন বন্দরটি এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সবচেয়ে কাছাকাছি এবং এটি মার্কিন মেরিন সেনাদের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
২০১৫ সালে যখন লিজ চুক্তিটি হয়েছিল, তখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অভিযোগ করেছিলেন যে, ল্যান্ডব্রিজ গ্রুপের সঙ্গে ব্যবসা করার বিষয়ে ওয়াশিংটনকে কিছুই জানায়নি অস্ট্রেলিয়া।