বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৩

থাইল্যান্ডে বন্য হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গর্ভনিরোধক টিকা ব্যবহার

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বন্য হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমবারের মতো গর্ভনিরোধক টিকার ব্যবহার শুরু করেছে থাইল্যান্ড। বুধবার দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্যাংকক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সুখি বুনসাং জানান, গত সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাত প্রদেশে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ ও একটি পশুচিকিৎসক দল তিনটি মাদি (স্ত্রী) হাতিকে এই টিকা দিয়েছে। মূলত বন্য হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি এএফপি’কে বলেন, থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি প্রদেশে হাতির জন্মহার বছরে প্রায় ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে, যেখানে অন্যান্য অঞ্চলে এই হার মাত্র ৩ শতাংশ। 

সুখি বুনসাং সতর্ক করে বলেন,এই অবস্থা চলতে থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত আরও বাড়বে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ সপ্তাহে পশুচিকিৎসকরা কোনো রকম চেতনানাশক ছাড়াই ‘ডার্ট গান’-এর মাধ্যমে দূর থেকে হাতির শরীরে টিকা প্রয়োগ করেন।

থাইল্যান্ডে বন্য হাতির সংখ্যা ২০১৫ সালে ছিল ৩৩৪টি, যা গত বছর তা বেড়ে প্রায় ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে । এছাড়া পোষা বা বন্দি অবস্থায় রয়েছে কয়েক হাজার হাতি। 

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের তথ্যমতে, ২০১২ সাল থেকে মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বে দেশটিতে প্রায় ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক হাতি মারা গেছে।

এশীয় হাতি থাইল্যান্ডের জাতীয় প্রাণী। তবে এটি বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে।

সুখি বুনসাং জানান, টিকা নেওয়া তিনটি হাতি বর্তমানে সুস্থ আছে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে। তাদের শরীরে কোনো সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তার দল প্রতি ছয় মাস অন্তর হাতিগুলোর রক্ত পরীক্ষা করবে। 

তিনি আরও জানান, দুই বছর আগে চিয়াং মাই প্রদেশে বন্দি অবস্থায় থাকা সাতটি হাতির ওপর এই টিকার সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।

আগামী মে মাসে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে দেশের বিভিন্ন পালের আরও ১৫টি হাতিকে এই জন্মনিয়ন্ত্রণ টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।