বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২১

ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়া স্থগিত সিদ্ধান্তে প্রস্তুত ফেড

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ  আজ বুধবার তার সুদের হার কমানোর ধারাবাহিকতা স্থগিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক চাপকে তারা প্রতিরোধ করছে এবং নীতিনির্ধারকরা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে মনে হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার শেষ তিনটি নীতিগত বৈঠকে সুদের হার কমিয়েছে। সুদের এই হার ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। 

কর্মকর্তারা চাকরির বাজারের ধীরগতির কারণে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

বাস্তবতা হচ্ছে, ফেডের নীতি সুদ হারের প্রভাব কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ে। সে কারণে সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা ফেডের দিকে তাকিয়ে থাকে।

তবে শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধি, কম বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতিতে তেজি ভাবের কারণে নীতিনির্ধারকরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিয়ে ‘অপেক্ষা করুন ও দেখুন’ নীতি গ্রহণ করেছেন।

তবে, তৎপরতার অভাব মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে ফেলতে পারে। 

ট্রাম্প বারবার বড় ধরনের সুদের হার কমানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছেন আর এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরস্থিরভাবে তথ্য-উপাত্ত দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

ট্রাম্প গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ফেডের ওপর চাপ অনেক বাড়িয়েছেন। 

ঋণ সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগের কারণে ফেড গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের চেষ্টা করছেন এবং তার প্রশাসন চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত শুরু করেছে।

এই মাসে একটি বিরল সমালোচনায়, পাওয়েল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে ফেডের সদর দপ্তরের সংস্কারের কারণে তার বিরুদ্ধে আনা সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।

ইওয়াই-পার্থেনন প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডেকো বলেন, ‘ফেডকে রাজনৈতিকভাবে সুদের হার কমাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, তবে তথ্য-উপাত্ত দ্বারা চাপে নেই।’

কর্মকর্তারা মনে করছেন যে স্বল্প মেয়াদে সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। 

এখন তাদের প্রধান আলোচনার বিষয় হলো, ভবিষ্যতে আরও সুদের হার কমানোর প্রয়োজন হলে, তা কোন পরিস্থিতিতে করা উচিত এবং এটি কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।

অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডেকো আরও বলেন, কর্মকর্তারা সুদের হার পুনরায় কমানোর আগে ‘মুদ্রাস্ফীতি কমে আসার আরও স্পষ্ট ও টেকসই প্রমাণ অথবা শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য অবনতি না দেখা পর্যন্ত তারা সুদের হার কমানোর বিষয়ে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।