বাসস
  ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৬

দাভোসে ‘শান্তি বোর্ড’ ও ‘নতুন গাজা’ পরিকল্পনা উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সংশয় থাকা সত্ত্বেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে তার নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উন্মোচন করলেন।

তিনি আবারও নিজেকে বিশ্বের একজন শান্তির উদ্যোগকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি দাভোস থেকে দেশে ফিরেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প ‘নতুন গাজা’-এর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও উন্মোচন করেন। 

এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এরপর ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় নেতা তাদের আলোচনাকে ভাল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এবং মার্কিন নেতা বলেন, কিয়েভের সঙ্গে রাশিয়ার প্রায় চার বছরের যুদ্ধ ‘শেষ করতে হবে’।

তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ‘ত্রিপাক্ষিক’ আলোচনার ঘোষণা দেওয়া এবং যুদ্ধপরবর্তী ইউক্রেনের জন্য মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি সত্ত্বেও, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। কারণ তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যথেষ্ট দ্রুত কাজ করছে না।

তিনি বলেন, কোনো কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময়  নেই— এটা অজুহাত মাত্র। আসল সমস্যা হলো রাজনৈতিক ইচ্ছা বা সদিচ্ছার অভাব।

নোবেল শান্তি পুরষ্কার জয়ে ব্যর্থতার জন্য ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করার পর এবং জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ জোরালো করার পর, ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ গঠন করা হয়।

ট্রাম্প সুইস স্কি রিসোর্টে বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সনদে স্বাক্ষর করার জন্য ১৯টি দেশের নেতা ও কর্মকর্তারা মঞ্চে যোগদান করার সময় মন্তব্য করেন, ‘ওহ, এটা সত্যিই তা রোমাঞ্চকর’

সদ্য গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,  ‘এই  বোর্ডের সুযোগ রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি হয়ে ওঠার।

এই শান্তি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে থাকবেন ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে গাজা যুদ্ধবিরতি এবং হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধের পর এই উপত্যকার পুনর্গঠন তত্ত্বাবধানের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তবে এর উদ্দেশ্য পরবর্তীতে সব ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাত সমাধানের দিকে রূপান্তরিত হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা তৈরি করতে চাইছেন।