বাসস
  ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬

অমীমাংসিত সমস্যা সত্ত্বেও গাজা যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপ শুরু

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) :  ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং প্রথম ধাপের কিছু ইস্যু অমীমাংসিত থাকা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন হলো, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ্যে অস্বীকৃতি, যা ইসরাইলের দাবি এবং গাজা থেকে ইসরাইল তার বাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করবে কি-না, সে বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব।

গত বুধবার ঘোষিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় দৈনন্দিন শাসন ও পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেবে। 

তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সমাধান ও ফিলিস্তিনি ঐক্য নিয়ে বড় প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। 

প্রথম ধাপ থেকে দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত উন্নয়নের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হল।

প্রথম পর্যায়ে অর্জন ও ফাঁক-ফোকর—

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক উন্মোচিত ২০-দফা প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপটি ১০ অক্টোবর শুরু হয়েছিল এবং এর লক্ষ্য ছিল মূলত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধ করা, সাহায্যের অনুমতি দেওয়া এবং হামাস ও মিত্র ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হাতে আটক থাকা সমস্ত জীবিত ও মৃত জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা।

এরপর থেকে কেবল একজন ইসরাইলি রান গভিলির দেহাবশেষ ছাড়া সকল জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

ইসরাইল হামাসকে গভিলির লাশ হস্তান্তরে বিলম্ব করার জন্য অভিযুক্ত করেছে। 

অন্যদিকে হামাস বলেছে যে, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ফলে লাশ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে গভিলির লাশ উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরুর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।

হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে, যার মধ্যে রয়েছে— বিমান হামলা, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো ও তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এ অগ্রসর হওয়া।

এই ‘ইয়েলো লাইন’ হলো ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোকে হামাস কর্তৃত্বাধীন এলাকা থেকে পৃথককারী একটি অনানুষ্ঠানিক সীমানা।

গাজার হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী ৪৫১ জনকে হত্যা করেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা ইয়েলো লাইনের কাছে নিষিদ্ধ এলাকায় সন্দেহভাজন প্রবেশকারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, একই সময়ে হামাসের হাতে তিন জন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছে।

সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইসরাইল প্রথম পর্যায়ে নির্ধারিত পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়েছে।

ইসরাইল তাদের বিরুদ্ধে আনীত এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছে।

গাজা সীমান্ত ও প্রবেশপথগুলো ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণাধীন, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে।

ইসরাইল ও জাতিসংঘ বারবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমোদিত সাহায্যকারী ট্রাকের সংখ্যাকে নিয়ে বিবাদে রয়েছে।

- দ্বিতীয় পর্যায়: অস্ত্র পরিত্যাগ ও শাসন ব্যবস্থা -

দ্বিতীয় পর্যায়ে, গাজা ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে,  যা তথাকথিত ‘শান্তি বোর্ডের’ তত্ত্বাবধানে কাজ করবে, আর এই ‘শান্তি বোর্ডের’ সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে শান্তি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং ‘শীঘ্রই’ এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর, তুরস্ক ও কাতার জানিয়েছে, ‘রামাল্লাহ ভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাথকে কমিটি নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে।’