শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে, দেশটির সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
দলটির বিদ্রোহী একটি অংশ সর্বসম্মতিক্রমে নতুন সভাপতি নির্বাচন করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এই বিভাজন নেপালের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গত সেপ্টেম্বর দুর্নীতি, শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভে নেপালের আগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া বক্তব্যে নেপালি কংগ্রেসের নব-নির্বাচিত সভাপতি গগন থাপা বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাকে নেপালি কংগ্রেসের মতো একটি দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এটি ছোট কোনো দায়িত্ব নয়। আমি আন্তরিকভাবে অঙ্গীকার করছি যে আপনাদের হতাশ করব না।’
তবে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। নেপালি কংগ্রেসের কোন অংশটি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আগামী ৫ মার্চ নির্ধারিত নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী গাছ প্রতীক ও দলীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবে।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই এএফপিকে বলেন, ‘কমিশন চিঠিপত্র পেয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।’
পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ২০১৬ সাল থেকে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে বিদ্রোহী নেতারা একটি বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান করেন।
বিভক্তি এড়াতে বুধবার পর্যন্ত আলোচনা চললেও, শের বাহাদুর দেউবার সরে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পরে থাপাসহ দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিদ্রোহী অংশ গগন থাপাকে তাদের সভাপতি নির্বাচন করে।
৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা নেপালি কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং তিনি আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
নেপালি কংগ্রেসের এই ভাঙন দেশটির রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রজন্মগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার দাবি পুরোনো দলগুলোর কাঠামো বদলে দিচ্ছে এবং নতুন মুখদেরকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে।
গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তিনি পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় জন-অসন্তোষ আরও তীব্র হয়।
অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ‘ন্যায্য ও ভয়মুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।