বাসস
  ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২৮

ইবোলা আক্রান্ত কঙ্গোতে এরভেবো টিকার ১৬,২৫০ ডোজ পৌঁছেছে

ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে লড়াইরত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি)-তে শুক্রবার রাতে ১৬ হাজার ২৫০ ডোজ এরভেবো টিকা পৌঁছেছে। এএফপির এক সাংবাদিক  জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।

ডিআর কঙ্গোতে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। গত ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, তার কয়েক সপ্তাহ আগেই ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হয়েছিল।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এ প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় সরকারি উপস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল, স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোও অত্যন্ত সীমিত। পাশাপাশি, কয়েক দশক ধরে এসব অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জার্মানিতে তৈরি এরভেবো টিকার মোট ৭০ হাজার ডোজ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) পাঠানো হবে।

ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক উদ্ভাবিত এরভেবো টিকা ইবোলা ভাইরাসের জায়ার স্ট্রেইন ধরন প্রতিরোধে অনুমোদিত। তবে বর্তমানে ডিআর কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া বুন্দিবুগিও ধরনটির বিরুদ্ধে এই টিকা অনুমোদিত নয়।

ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞরা এখনও নিশ্চিত নন, এরভেবো মানুষের শরীরে বুন্দিবুগিও ধরনটির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে কি না। তবে প্রাণীর ওপর চালানো পরীক্ষাসহ প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা পাওয়া গেছে, টিকাটি কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।

ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা কিনশাসা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ব্যাপক ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময়ও এরভেবো টিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গোর জন্য বরাদ্দ ৭০ হাজার ডোজের মধ্যে ২০ হাজার ডোজ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য এবং বাকি ৫০ হাজার ডোজ সম্মুখসারির কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যবহার করা হবে।

ডিআর কঙ্গোর সরকারি সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ২৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৫১৬ জন মারা গেছেন।

জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ ইবোলা সমন্বয়ক জুলিয়েন হার্নেইস শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি ‘দ্রুতগতিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে’।

চলতি মাসে ডব্লিউএইচওর টিকা বিশেষজ্ঞরা এরভেবো টিকার ওপর ব্যাপক পরিসরে মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর সুপারিশ করেছেন। বর্তমানে অনুমোদিত একমাত্র ইবোলা টিকা এরভেবো বুন্দিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে অন্য ধরনের ইবোলার মতো সুরক্ষা দিতে পারে কি না, তা জানতেই এই পরীক্ষা চালানো হবে।

এদিকে বুন্দিবুগিও ধরনকে লক্ষ্য করে আরও দুটি টিকা বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। এর একটি তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মডার্না, যা এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অন্যটি তৈরি করছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিলম্যান ল্যাবরেটরিজ ‘আরভিএসভি’ নামে আরেকটি টিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ডব্লিউএইচও এটিকে বর্তমানে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক টিকা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইবোলা সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ায়। ভাইরাসটি জ্বরসহ গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।