শিরোনাম

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাত্র কয়েক দিন আগে পেত্রোকে সামরিক হুমকি দেওয়ার পরেই ট্রাম্প এ আমন্ত্রণ জানান।
সোমবার ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পেত্রোকে অভিযুক্ত করেছিলেন, এমনকি তিনি পেত্রোকে ‘নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকতেও বলেন। তবে পরে ৭ জানুয়ারি দুই নেতা প্রথমবার ফোনে কথা বলেন।
বোগোটা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, পেত্রো তাঁকে মাদকসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাঁর ফোন কল এবং ভঙ্গির প্রশংসা করেছি এবং শিগগিরই হোয়াইট হাউসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি।’
গত শনিবার ভোরে মার্কিন বাহিনী কারাকাসে হামলা চালায়, সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা বর্ষণ করে আকস্মিক অভিযানে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।
তিনি প্রমাণ ছাড়াই কলম্বিয়ার নেতাকে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
কলম্বিয়ার ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার মতো সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আছে কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘শুনতে ভালোই লাগছে।’
এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সোমবার বলেছেন, এমন হুমকির মুখে তিনি ‘অস্ত্র হাতে নিতে’ প্রস্তুত রয়েছেন।
কলম্বিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিসিও জারামিলো বুধবার এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা পুরো লাতিন আমেরিকার জন্য একটা ‘বিপর্যয়’ ডেকে আনতে পারে।
ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে পেত্রো বুধবার সারা কলম্বিয়ায় বিক্ষোভের ডাক দেন।
তিনি সমর্থকদের এক সমাবেশে জানান, তিনি হোয়াইট হাউস বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, যদিও কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, তিনি ‘খুব কঠিন’ একটি ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে ট্রাম্পের সঙ্গে এক ঘণ্টার ফোনালাপের পর সুর নরম করেছেন।
পেত্রো আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পকে দুই দেশের মধ্যে ‘তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।