শিরোনাম

বগুড়া, ২৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : যথাযোগ্য মর্যাদা, বীরত্বগাথা স্মরণ আর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় উদযাপিত হচ্ছে ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই বগুড়ার ফুলবাড়ি স্মৃতিস্তম্ভে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাজীবি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। শান্তির প্রতীক পায়রা ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের পর শুরু হয় বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। এতে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের স্কাউট ও গার্লস গাইডের ৬০টিরও বেশি সুশৃঙ্খল দল অংশগ্রহণ করে। ব্যান্ড দলের বাজনার তালে তালে মার্চ পাস্টের মাধ্যমে তারা জাতীয় পতাকাকে সালাম প্রদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শারীরিক কসরত বা ডিসপ্লে প্রদর্শনী। শিক্ষার্থীরা তাদের নিপুণ কৌশলে দেশের মানচিত্র, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস ফুটিয়ে তোলে, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধায় সকল শহীদ ও ত্যাগী মা-বোনদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন,
‘স্বাধীনতা মানে শুধু একটি মানচিত্র নয়; এটি আমাদের অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতা অর্জন যেমন কঠিন, রক্ষা করা তার চেয়েও কঠিন। তাই দেশপ্রেম ও নৈতিকতা নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
বক্তব্যে তিনি ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশ গড়ার নতুন প্রত্যয়ে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলার অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।