বাসস
  ২৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৫

কানাডায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

কানাডার অটোয়ায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত। ছবি: বাসস

অটোয়া, ২৮ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কানাডার অটোয়ায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত এক কূটনৈতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কানাডার সংসদ সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব রবার্ট অলিফ্যান্ট।

হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন তার স্বাগত বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ, নির্যাতিতা বীরাঙ্গনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। 

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা কেবল একটি লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি নিরন্তর দায়িত্ব। 

হাইকমিশনার বলেন, গত ৫৫ বছর যাবৎ বাংলাদেশ এ স্বাধীনতাকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্রঋণ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যকে এই রূপান্তরের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। 

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় কানাডার অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও জনযোগাযোগের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

মো. জসীম উদ্দিন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ইস্যুসহ বাংলাদেশের অন্যান্য চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। 

তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় হাইকমিশনার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সম্মিলিত অগ্রগতির কার্যকর পথ হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রধান অতিথি রবার্ট অলিফ্যান্ট তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বীকৃত একটি রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।

তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে দেশটির অগ্রগতির প্রশংসা করেন। 

এর পাশাপাশি তিনি কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা ও সেবা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কানাডার আগ্রহের কথা জানান। 

রবার্ট অলিফ্যান্ট বাংলাদেশের গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ’ হিসেবে অভিহিত করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

এছাড়া ১০ লাখের অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটা হয়, যা উদযাপনে এক উৎসবমুখর মাত্রা যোগ করে। 

এ সময় প্রধান অতিথি রবার্ট অলিফ্যান্ট, কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের সভাপতি ব্র্যাড রেডেকপ এবং ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হাইকমিশনারের সঙ্গে যোগ দেন। 

এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘বাংলাদেশ: বারো মাসে তেরো পার্বণ’— শীর্ষক একটি আকর্ষণীয় নৃত্যনাট্য প্রদর্শিত হয়। 

বাংলাদেশের ঋতুচক্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এ নান্দনিক উপস্থাপন অতিথিদের মুগ্ধ করে।

এর আগে, সকালে বাংলাদেশ হাউসে মিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।