বাসস
  ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:০৩

নেত্রকোনার প্রতিভাবান দাবাড়ু শুভ নিজেকে নিয়ে যেতে চান অনন্য উচ্চতায়

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ (বাসস) : ছোটবেলা থেকেই দাবার প্রতি এক গভীর টান অনুভব করতেন নেত্রকোনার প্রতিভাবান দাবাড়ু শুভ। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাসার আশেপাশে বড় ভাইয়েরা দাবা খেলতেন, আর সে খেলা শুভ কাছে থেকে দেখতেন। বড় ভাইদের খেলার পাশে দাঁড়িয়ে দেখতে দেখতে দাবা খেলা শিখেছিলেন।

জেলা শহরের সাতপাই কালিবাড়ি বটতলা এলাকায় কাজল রজক ও সীমা রজক দম্পত্তির একমাত্র সন্তান শুভ।

ছোটবেলা থেকেই শুভ ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পছন্দ করেন। বিতর্ক, লেখালেখি, সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দাবা খেলায়ও বেশ পটু শুভ লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা যা বই আকারে প্রকাশ করারও ইচ্ছে। 

শুভর ঘরের দেয়ালে নিজের হাতে বানানো দাবা খেলার বিভিন্ন গুটি, বুক সেলফে রাখা দাবা খেলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বই দেখেই বুঝা যায় দাবার প্রতি তার কতটুকু আগ্রহ।

শুভর বাবা কাজল রজক জানান, ‘ছোটবেলা থেকেই শুভ দাবা খেলতে পছন্দ করতো। পাড়ার বড় ছেলেদের খেলা দেখে সে দাবা খেলা শিখেছে। এখন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিজেকে আরো পরিনত করার চেষ্টা করছে।’

মা সীমা রজক জানান, আমাদের একমাত্র সন্তান শুভ। আর্থিক সমস্যাসহ নানান সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শুভ নিজ যোগ্যতায় জেলার হয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধিত্ব করছে। আমার একটাই আশা সে যেন এদেশকে সারাবিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারে।

তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উপলক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আয়োজিত অনূর্ধ্ব -১৬ ট্যালেন্ট হান্ট স্পোর্টস প্রোগ্রাম ২০২৪-২০২৫' এ নেত্রকোনা জেলার হয়ে ১১ দিনব্যাপী দাবা প্রশিক্ষণে অংশ নেয় শুভ।

২০২২ সালে ‘মার্কস একটিভ স্কুল চেস চ্যাম্পস’ এ স্কুল থেকে অংশগ্রহণ করে শুভ। এর মাধ্যমেই দাবা খেলায় হাতেখড়ি হয়। এ প্রতিযোগিতায় তার বিদ্যালয় ব্রোঞ্জ পদক জয় করে।

জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতা ২০২৩, শেখ কামাল ন্যাশনাল ইয়ুথ চেস চ্যাম্পিয়নশিপ (অনূর্ধ্ব -১৬), নেত্রকোনা জেলা ক্ষুদে দাবা খেলোয়ার বাছাই -২০২৩, শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২, জেলা ক্রীড়া অফিস আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা -২০২৪, বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি  শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি কর্তৃক ৫১তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা -২০২৪, গিকা স্ট্যান্ডার্ড রেটিং স্কুল চেস টুর্ণামেমেন্টে শুভ অংশ নিয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে।

শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমসে নেত্রকোনা সদরের দলের অধিনয়াক ছিলেন। জেলা পর্যায়ে তার দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায় নেত্রকোনা।

শেখ কামাল ন্যাশনাল ইয়ুথ চেস চ্যাম্পিয়নশিপ (অনূর্ধ্ব -১৬)’এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথমবারের মত জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান শুভ।

তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উপলক্ষ্যে তৃনমূল পর্যায়ে প্রতিভা উন্মেষের লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক   আয়োজিত 'অনূর্ধ্ব -১৬ ট্যালেন্ট হান্ট স্পোর্টস প্রোগ্রাম ২০২৪-২০২৫' এ নেত্রকোনা জেলার শীর্ষ দাবা খেলোয়াড় হিসেবে ১১ দিনব্যাপী দাবা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং সেখানে কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৫ এ ৩ স্কোর অর্জন করেন। 

সমাজের অনেক সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে নিজ যোগ্যতায় দিনদিন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এ তরুণ প্রতিভা। 

বাসস’র সাথে আলাপকালে শুভ  জানান, ‘মা আমাকে অনেক সাপোর্ট করেন, সমাজের অনেকেই অনেক কিছু বলেছে, দাবা কেন খেলছি? এটাতো জুয়াখেলা, এমন অনেক কথাই প্রায়শই শুনতে হয়েছে। এসব কথা উপেক্ষা করে নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছি।’

রানী হামিদ, আবু সুফিয়ান শাকিল, ম্যাগনাস কার্লসেন, ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বিদিত গুজরাটি, মিখাইল নেখেমিয়েচিভ তাল এর খেলা ভীষণ ভালো লাগে স্বপ্নবাজ এই তরুণের।

দাবা খেলায় জেলা পর্যায়ে তেমন কোন সুযোগ, সুবিধা না থাকায় নিজ খরচে এ পর্যন্ত এসেছেন শুভ। জেলা পর্যায়ে দাবা খেলায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ালে তার মতো অনেকেই সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারবেন বলে মনে করেন এ ক্ষুদে খেলোয়াড়। 

ভবিষ্যতে একজন গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই এখন শুভর একমাত্র লক্ষ্য।