BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ০৩ জুলাই ২০২২, ১৬:১৮

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটের রাজস্ব আয়

চট্টগ্রাম, ৩ জুলাই, ২০২২ (বাসস): জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম বন্ড কমিশনারেট। ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট। এসময় রাজস্ব আয় হয়েছে ৯৭৯ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ কোটি টাকা বেশি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫১ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার এ কে এম মাহবুবুর রহমান বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৯৫১ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রাম ৯৭৯ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে, যা  লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ কোটি টাকা বেশি। এর আগের অর্থবছরে ৬৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আয় ছিল ৮০১ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ১৭৮ কোটি টাকা বেশি আয় হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ২২ দশমিক ২২ শতাংশ।
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্রে জানা যায়, এসব আয়ের মধ্যে অর্থবছর শুরুর প্রথম মাস জুলাইয়ে আয় হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা, তারপর ক্রমান্বয়ে আগস্ট মাসে ১৪৪ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বর মাসে ১৪ কোটি টাকা, অক্টোবর মাসে ৩২ কোটি টাকা, নভেম্বর মাসে ২৮ কোটি টাকা ও ডিসেম্বর মাসে ৬৯ কোটি টাকা। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ৭৫ কোটি টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৮৬ কোটি টাকা, মার্চ মাসে ১৭২ কোটি টাকা, এপ্রিল মাসে ১০৯ কোটি টাকা, মে মাসে ১০৭ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ জুন মাসে ৩১ কোটি টাকা।
মোট ৯৭৯ কোটি টাকা আয়ের মধ্যে নিবারক তৎপরতার মাধ্যমে ২০৯ কোটি টাকা রাজস্ব আহরিত হয়েছে, যা আহরিত মোট রাজস্বের ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এসব রাজস্ব আয় হয়েছে ৯১টি প্রতিষ্ঠান থেকে। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছিল। ফলে নিবারক তৎপরতার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট এসব প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায় করে। তবে নিবারক তৎপরতার মাধ্যমে ২০৯ কোটি টাকা আদায়ের মধ্যে দেশের বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড থেকে একাই আদায় করেছে ১৯৮ কোটি ৮০ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং তাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আলম ট্রেডার্স থেকে আদায় হয়েছে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা। আর বাদবাকি ৮৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনার একেএম মাহবুবুর রহমান জানান, নিয়মিত বন্ডেড ওয়্যারহাউস পরিদর্শন ও নজরদারির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া প্রতিরোধমূলক তৎপরতার মাধ্যমে ২০৯ কোটি টাকার রাজস্ব এসেছে, যা আহরিত মোট রাজস্ব আয়ের ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। পাশাপাশি আলোচ্য সময়ে অডিটের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে, যার বিপরীতে ইতোমধ্যে দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।
কমিশনার আরও জানান, ১ জুলাই ২০২১ থেকে ৩০ জুন, ২০২২ পর্যন্ত ৯১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাদের কাছ থেকে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মামলা করা হয়। যার মধ্যে ২০৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ১৪৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি উদঘাটিত হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন