শিরোনাম

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : জাপান থেকে আমদানি করা চিপ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিকের ওপর মঙ্গলবার থেকে ‘জামানত’ বা অতিরিক্ত ফি নেওয়া শুরু করেছে চীন।
বেইজিংয়ের দাবি, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করেছে, এতে চীনের স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জাপান থেকে আমদানি করা ডাইক্লোরোসিলেন নামের রাসায়নিকের বিষয়ে জানুয়ারিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং বা কম দামে পণ্য তদন্ত শুরু করা হয়। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত এই রাসায়নিকের অন্যতম বড় বৈশ্বিক সরবরাহকারী জাপান।
এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সময়েই তদন্তটি শুরু হয়। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, তাইওয়ানে হামলা হলে টোকিও তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, ‘প্রাথমিক প্রমাণে দেখা গেছে, জাপান থেকে আমদানি করা পণ্যগুলো ডাম্পিংয়ের বা কম দামে পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং এতে চীনের ডাইক্লোরোসিলেন শিল্প উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকে ‘নিরাপত্তা জামানত’ হিসেবে সাময়িক অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত হারে এই অতিরিক্ত জামানত দিতে হবে।
বেশিরভাগ জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানতের হার ৯৯ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে টোকিওভিত্তিক ডেনাল সিলেনের ক্ষেত্রে হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ।
জাপানি রাসায়নিক কোম্পানি শিন-এৎসু কেমিক্যালের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, প্রতিষ্ঠানটি নতুন এই পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছে।
পণ্যটির রপ্তানি থেকে আর্থিক আয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
তবে বলেন, ‘এটি আমাদের ব্যবসার খুবই ছোট একটি অংশ এবং সামগ্রিক ব্যবসায় এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।’
জাপান সরকারের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, চীনের এই বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে টোকিও ‘যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাপান এরই মধ্যে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।’
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়নি যে আমদানিকৃত রাসায়নিকের ওপর কতদিন পর্যন্ত আমানত প্রযোজ্য থাকবে, বা কখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।