বাসস
  ৩১ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৪০

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খাতভিত্তিক কর্মকৌশল চান উদ্যোক্তারা 

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), কৃষি, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

তারা বলেছেন, শুধু কর্মকৌশল গ্রহণ করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত পরিবীক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার, সহজ অর্থায়ন, সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

আজ (সোমবার) মতিঝিলে এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘এলডিসি উত্তরণের জন্য সংস্কার কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

এতে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারে জিএসপি ও ইবিএর মতো শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিধিবিধানেও কঠোরতা আসতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মুক্ত আলোচনায় উদ্যোক্তারা বলেন, বাস্তবসম্মত কর্মকৌশল ছাড়া এলডিসি উত্তরণের সুফল পাওয়া কঠিন হবে। এজন্য মাঠপর্যায় থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার ও প্রয়োজন নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তারা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, দেশের প্লাস্টিক শিল্পের বড় একটি অংশ কপি পণ্য তৈরি করে। এলডিসি উত্তরণের পর এ খাতেও মেধাস্বত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ অবস্থায় প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত কর্মকৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

পটুয়াখালী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইসমাত জেরিন খান বলেন, এলডিসি উত্তরণের কর্মকৌশল যেন শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রান্তিক পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সরবরাহব্যবস্থায় সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব অধিকার বাংলাদেশের শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ওষুধ, কৃষি ও কৃষি-রাসায়নিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশে উৎপাদিত পেটেন্ট-সুরক্ষিত পণ্যগুলোর দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ রেজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১-এর জাতীয় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মো. মুনির চৌধুরী বলেন, বেসরকারি খাতকে নিজ নিজ খাতের চ্যালেঞ্জ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠন এবং ফলাফলভিত্তিক কর্মকৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক দেশের সব জেলা চেম্বার ও খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনকে নিজ নিজ খাতের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে এফবিসিসিআইকে দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য পাওয়া অতিরিক্ত তিন বছর সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য জেলা চেম্বার ও খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেছার আহমেদ, এফবিসিসিআই’র সহায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক পরিচালকবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাণিজ্য, শিল্প, বিএসটিআই ও আইসিটি বিভাগের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।