বাসস
  ৩১ আগস্ট ২০২৬, ২৩:২২

চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : চীনের ইউনান প্রদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান। 

আজ কুনমিংয়ে কুনমিং ইয়াং এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশে এ বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সভায় তিনি বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে চীনা উদ্যোক্তাদেরকে  বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য, তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে ‘বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন’ শীর্ষক উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে শতভাগ মালিকানা, মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসন, কর অবকাশ এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

সভায় চীনা উদ্যোক্তারা স্বাস্থ্যসেবা ও মৎস্য খাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় প্রথম সচিব বাংলাদেশে হাসপাতাল ও রোগনির্ণয় কেন্দ্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ উৎপাদনে চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এছাড়া চীনের বাজারে কাঁকড়া ও কুচিয়ার উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এসব পণ্যের চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির বাজার-প্রবেশ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের কৃষিপণ্য বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

কুনমিং ইয়াং উদ্যোক্তা সমিতির সভাপতি ওউইয়াং জিংগাং, সহসভাপতি সান ওয়েনজি, মহাসচিব লি ইসহ ইউনানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি সভায় অংশ নেন।

আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ, ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং খাতভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।