শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জুলাইয়ে কানাডার বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ শতাংশে উঠেছে। এর কয়েক দিন পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি দেওয়া নতুন কঠোর শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা কানাডার অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন মার্কিন শুল্ক এড়াতে দুই দেশের আলোচনা এখন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘এখন প্রকাশ্যে আলোচনা নিয়ে কথা বলার সময় নয়।’
কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। জুলাইয়ে দেশটিতে পেট্রোলের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৭ শতাংশ বেড়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ এবং জুলাইয়ের শেষ দিকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেট্রোলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়।
জুনে কানাডার মূল্যস্ফীতি ছিল ২.৮ শতাংশ।
এ ছাড়া বিমান ভ্রমণসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন সেবার খরচ বেড়ে যাওয়াও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্লেষকেরা এর সঙ্গে কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করা বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তি ভোক্তা ব্যয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন।
৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাঙ্ক্ষিত সীমার উপরের দিকে অবস্থান করছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। কারণ, কানাডার অর্থনীতির সামনে বর্তমানে আরও বড় ঝুঁকি রয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধ। ট্রাম্প বুধবার থেকে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
নতুন শুল্ক এড়াতে কানাডার আলোচকরা ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে কয়েক মাস ধরে কানাডার গাড়ি, ইস্পাত, কাঠ ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে চাপ সৃষ্টি করা বিভিন্ন খাতভিত্তিক শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়ার চেষ্টাও চলছে।
কানাডার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অটোয়া এ বিষয়ে বেশ কিছু ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল ও ওয়াইন আবার কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের দোকানে বিক্রির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রদেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার বিষয়টিও রয়েছে।
তবে দুই দেশ শিগগিরই কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ওয়াশিংটন নতুন শুল্ক কার্যকর করলে কানাডা কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে—সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, তিনি চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন। পরিস্থিতির সব ধরনের সম্ভাবনা মোকাবিলার জন্য তাঁর সরকারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
টিডি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লেসলি প্রেস্টন বলেন, সোমবার প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্য কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে ‘আতঙ্কিত করবে না’। এর অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক উত্তেজনা।
প্রেস্টন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার শুল্ক আরোপের হুমকি ও তা স্থগিত করার কারণে কানাডার অর্থনীতিতে ‘আস্থার বড় ধাক্কা’ তৈরি হয়েছে। ১৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা ৫০ শতাংশ শুল্ক এড়াতে এখনো কোনো চুক্তি না হওয়ায়, এটি কানাডার অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।