বাসস
  ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১৪

সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে সরকার ঘোষিত শুল্ক-কর সুবিধা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কাস্টমস হাউজ ও এলসি স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

পাশাপাশি, সৌর প্যানেল ও ইনভার্টারের এইচএস কোড নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আমদানিকারকদের সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআরের রাজস্ব ভবন থেকে আজ সোমবার জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাস্টমস হাউজ ও এলসি স্টেশনে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি এনবিআরের নজরে আসার পর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, সৌর প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রজ্ঞাপনে সোলার ফটোভোলটাইক/মডিউল/প্যানেলের এইচএস কোড ৮৫৪১.৪৩.০০ উল্লেখ রয়েছে। তবে, কোনো আমদানিকারকের বিল অব এন্ট্রিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট একাধিক পণ্য ঘোষণা করা হলে এবং সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন এইচএস কোড ব্যবহৃত হলেও শুধু এ কারণে শুল্ক-কর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে, সৌর প্যানেলের জন্য বিদ্যমান প্রজ্ঞাপনের সুবিধা এবং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের শুল্ক-কর পরিশোধ করে পণ্য খালাস করা যাবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

এতে বলা হয়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সোলার ইনভার্টারের আমদানির ক্ষেত্রেও এইচএস কোড নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর করেছে এনবিআর।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, গত ৮ জুন সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের টেবিল-১-এ সোলার ইনভার্টারের বিপরীতে অনুবন্ধনাত্মকভাবে এইচএস কোড ৮৫০৪.৪০.৪০-এর পরিবর্তে এইচএস কোড ৮৫০৪.৪০.৯০ উল্লেখ থাকলেও পণ্যের বর্ণনা প্রাধান্য পাবে। ফলে সৌর ইনভার্টার আমদানির ক্ষেত্রে ওই প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত শুল্ক-কর রেয়াতের সুবিধা প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, শুধু এইচএস কোডের পার্থক্যের কারণে সৌর ইনভার্টার আমদানিকারককে ঘোষিত শুল্ক-কর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

এছাড়া, কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌর প্ল্যান্ট স্থাপন করতে চাইলে ওই প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয় সব পণ্যের ক্ষেত্রেও শুল্ক-কর সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শুল্ক-সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ও আমদানি নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কেবল ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিয়ে পণ্য খালাস করা যাবে। তবে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর। পরবর্তী সময়ে আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর সমন্বয়যোগ্য হবে।

এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে যেন অযথা জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।