শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের পর ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদের হার বাড়াবে—এমন আশঙ্কা কমে যাওয়ায় শুক্রবার এশিয়ার অধিকাংশ শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে।
এদিকে তেলের দাম আরও কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ওয়াল স্ট্রিটেও আগের দিনের ইতিবাচক প্রবণতার প্রভাব এশিয়ার বাজারে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জুলাইয়ের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রত্যাশার চেয়ে কম এবং উল্লেখযোগ্যভাবে ধীরগতিতে বাড়ার তথ্য প্রকাশের পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ রেকর্ড উচ্চতায় এবং নাসডাক জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে দিন শেষ করে।
এই তথ্যের পর আগামী মাসের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে— এমন প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক এবং গত শুক্রবার প্রকাশিত কর্মসংস্থান প্রতিবেদনও মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ইঙ্গিত দেয়। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৪০ শতাংশেরও কম বলে ধরে নিচ্ছেন। অথচ গত সপ্তাহে এই সম্ভাবনা ছিল ৫০ শতাংশ।
কুইনটেক্স ইন্টেলের বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রেডারদের ব্যাখ্যা করতে হচ্ছিল- কেন ফেডারেল রিজার্ভের আবার সুদের হার বাড়ানো উচিত নয়। সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন বাজার জানতে চাইছে, আসলে কোন পরিস্থিতিতে ফেডকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরপর তিনটি এমন তথ্য এসেছে, যা সুদের হার কম রাখার পক্ষে— গত শুক্রবার দুর্বল কর্মসংস্থান তথ্য, প্রত্যাশার তুলনায় কম মূলস্ফীতি এবং সর্বশেষ অনুকূল উৎপাদক মূল্যসূচক।
তবে বাজারে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। মূল্যস্ফীতি এখনো ৩ শতাংশের বেশি, যা ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সংকট যেকোনো সময় আরও তীব্র হয়ে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর মধ্যে ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পরও সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ওহাইওতে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির এসব সংখ্যা কম আসছে— এটা দেখে আমি খুশি। কিন্তু এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বা মূল্যস্ফীতি এতটা কমবে যে আমরা আবার ২ শতাংশে ফিরতে পারব— এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, এখনই আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’
এর আগে সোমবার ইয়াহু ফাইন্যান্সকে তিনি বলেছিলেন, ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে একবার সুদের হার বাড়ালে অর্থনীতিতে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। তাই একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।