শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তরে (ডিএফএটি) বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দুটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ডিএফএটির ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রবি কেওয়ালরাম এবং সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া ডিভিশনের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সারা স্টোরির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে।
বৈঠকে, আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আরসিইপি অ্যাকসেশন প্রশ্নমালা জমা দিয়েছে এবং চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের আবেদনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন কামনা করে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখায় অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের প্রস্তাব দেওয়া হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায় অস্ট্রেলিয়া।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার উন্নতমানের পশম ও তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশে উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি ও গ্রিড আধুনিকীকরণ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা এবং ‘বিল্যাটারেল ট্রেড নেগোশিয়েশনস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আরসিইপি অ্যাকসেশন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পারস্পরিক সমন্বয় এবং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্টের (টিফা) অধীনে কার্যকরী গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং উভয় দেশের অর্থনীতিই এর সুফল পাবে বলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করছে।