বাসস
  ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩০

মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাকের প্রচারণায় লাস ভেগাসে নজর কেড়েছে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬(বাসস): উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ফ্যাশন সোর্সিং ট্রেড ফেয়ার ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক ২০২৬’-এ নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাসভেগাস ট্রেড সেন্টারে ১০ থেকে ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে বৈশ্বিক ক্রেতা এবং তৈরি পোশাক খাতের শিল্প-সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহযোগিতা এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান ২১টি বুথ নিয়ে অংশগ্রহণ করে।

বিশ্বব্যাপী পোশাক প্রস্ততকারক, টেক্সটাইল ও ফ্যাব্রিক সরবরাহকারী, ক্রেতা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং ডিজাইনারদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের অন্যতম স্বীকৃত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক’ পরিচিত। মার্কিন বাজারে প্রবেশ এবং বৈশ্বিক সোর্সিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও মেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৪টি দেশের প্রদর্শকরা অংশ নেন। মেলায় প্রায় ৮০০টির বেশি স্টল স্থান পায়। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ৭০টি দেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার দর্শনার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে ৭৩ শতাংশের বেশি ছিলেন উচ্চপর্যায়ের ক্রেতা এবং খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক।

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে নিজেদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তুলে ধরে। বিশেষ করে নিটওয়্যার, ওভেন পোশাক, ক্যাজুয়াল পোশাক, কটন শার্ট, প্রিমিয়াম ডেনিম, বিশেষায়িত ওয়াশড পণ্য এবং উচ্চমূল্যের ফরমাল পোশাক প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন প্রশংসা অর্জন করে।

মেলা চলাকালে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়িক বৈঠক ও বাণিজ্যিক আলোচনায় অংশ নেন। এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসায়িক অনুসন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন খাতের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রস্তত, এ মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেটি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজারের বহুমুখীকরণ এবং একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এ অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।