শিরোনাম

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬(বাসস): বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) যৌথভাবে সিলেট অঞ্চলের শিল্পের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছে।
মঙ্গলবার সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে ‘বাংলাদেশে শিল্পের জরিপ’ শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় এ আহ্বান জানানো হয়। মাঠপর্যায়ে শিল্প-কারখানা, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনাময় খাতের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের লক্ষ্যে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এডিবির অর্থায়ন ও সানেমের কারিগরি সহায়তায় বিআইডিএ পরিচালিত এ জরিপের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, একটি নির্ভরযোগ্য শিল্প ডাটাবেজ তৈরি করা এবং বিনিয়োগ ও সুষম আঞ্চলিক শিল্পায়ন প্রসারে কার্যকর নীতি প্রণয়নে সহায়তা করা।
কর্মশালায় এডিবির বাংলাদেশ কার্যালয়ের পাবলিক সেক্টর ইকোনমিস্ট তাসনিম আলম বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, অধিক বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের অধিকতর অংশগ্রহণকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট উত্তরণ রোডম্যাপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে কাজে লাগাতে হবে। তিনি সিলেটের পর্যটন খাতকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, এ জরিপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সহায়তার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি হবে।
সানেমের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জুবায়ের হোসেন বলেন, বর্তমানে শিল্প-কারখানার বড় অংশ ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত।
জরিপের আওতায় বিদেশি মালিকানাধীন ও যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ শুমারি এবং দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বশীল জরিপের মাধ্যমে শিল্পের বিস্তৃতি যাচাই করা হবে। এতে মালিকানা, খাত, কার্যক্রম ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিআইডিএ’র মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রায় বলেন, দেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় শিল্প ডাটাবেজের ঘাটতি মোকাবিলায় এ জরিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ, বিআইডিএর ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিআইডিএর নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সংস্থাটি তথ্যের অসামঞ্জস্য, নিবন্ধনের পর পর্যাপ্ত অনুসরণ না থাকা এবং বর্তমানে কতগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে সে বিষয়ে সীমিত তথ্যের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিআইডিএ সিলেটের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের (এসএমই) সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলো অনুসন্ধানেও সংস্থাটি আগ্রহী। জরিপের মাধ্যমে তৈরি ডাটাবেজ নীতিনির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজীকরণ এবং চেম্বারসহ অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয়ে সহায়তা করবে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, এ জরিপের মাধ্যমে অঞ্চলের শিল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে এবং স্থানীয় কাঁচামালভিত্তিক যেসব শিল্প এখনো অনেকাংশে অনাবিষ্কৃত রয়েছে, সেগুলোর সম্ভাবনাও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পা রপ্তানিমুখী উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি কৃষির সঙ্গে পর্যটন খাতের আরও কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানান। নির্ভরযোগ্য আঞ্চলিক তথ্যের অভাবে নতুন শিল্প স্থাপনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হন।
তথ্য সংগ্রহে জরিপ দলের প্রতি জেলা প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সিলেটে শিল্প উন্নয়নের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে স্বল্পসুদের অর্থায়নের অভাব, বন্দর যোগাযোগের দুর্বলতা, দক্ষ জনবলের সংকট, অনির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত জটিলতার কথা তুলে ধরেন।
তারা খাতভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মৎস্য খাত সম্প্রসারণ এবং সৌরবিদ্যুৎকে ভবিষ্যৎ শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দেন।
কর্মশালায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী, চেম্বার নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন।