বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৬

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টকে স্বাগত জানাল এফবিসিসিআই

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সফলভাবে স্বাক্ষর হওয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক আজ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোরিয়া থেকে প্রায় ৯০৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে এবং কোরিয়ায় ৪৯২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে। বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৪১১ মিলিয়ন ডলার।

মো. ফজলুল হক বলেন, সিইপিএ কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্য, অর্থাৎ ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বা শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজারও উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে, যা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি সহযোগিতাও আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক আমদানি করে। অথচ এর মাত্র ৩ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে আসে। নতুন এ চুক্তি কার্যকর হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানিও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

এফবিসিসিআই প্রশাসক সিইপিএ চুক্তি দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন করায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও অংশীজনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। 

তিনি বলেন, এ চুক্তি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আরও বৃহৎ পরিসরের বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে।