বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৮

স্বর্ণখাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংশোধিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : স্বচ্ছতা, বৈধ বাণিজ্য, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণ জোরদারের লক্ষ্যে দেশের স্বর্ণ খাতকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক, নিয়ন্ত্রিত ও জবাবদিহিমূলক শিল্পে রূপ দিতে সংশোধিত জাতীয় স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’-এর খসড়ার ওপর আগামী রোববারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও অংশীজনকে লিখিত মতামত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে উপযুক্ত নীতিমালা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাবে দেশের স্বর্ণ খাত একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো স্বর্ণ ব্যবসাকে অন্যান্য শিল্প খাতের মতো পূর্ণাঙ্গ আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় এনে একটি স্বীকৃত শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং স্বর্ণের লেনদেন ও মজুদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের আমদানি, সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ একটি সমন্বিত নজরদারির আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো স্বর্ণের মজুদ, লেনদেন এবং উৎস সহজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

স্বর্ণের কৌশলগত অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বৈধভাবে আমদানি করা এবং দেশে সংরক্ষিত স্বর্ণ জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মতোই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করে।

তিনি বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান নিরুৎসাহিত করতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যতটা সম্ভব সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে অবৈধ রপ্তানি ও চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুল্ক ও কর কাঠামো নির্ধারণে দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

খসড়া নীতিমালায় স্বর্ণালংকার রপ্তানি সম্প্রসারণকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ জন্য যৌক্তিক ও সর্বনিম্ন শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করে স্থানীয় উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। একটি যুগোপযোগী ও সুসংগঠিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে স্বর্ণ কেনার সুযোগ পাবেন।

নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে ভারতসহ বিশ্বের তিন থেকে চারটি প্রধান স্বর্ণালংকার রপ্তানিকারক দেশের আমদানি পদ্ধতি, শুল্ক কাঠামো, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি প্রণোদনা পর্যালোচনা করবে সরকার।

এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে লিখিত সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি করা নয়; বরং একটি স্বচ্ছ, টেকসই ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিগত কাঠামো গড়ে তোলা।

অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনার পর প্রয়োজন হলে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার আগে সরকার আরও পরামর্শমূলক বৈঠক করবে।