শিরোনাম

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দরপতনে এশিয়ার অন্যান্য দেশের মুদ্রাবাজারে সৃষ্ট সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
মঙ্গলবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইয়েনের অতিরিক্ত দুর্বলতায় ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের এশীয় আর্থিক সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো।
তাই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে ইয়েন কেনার মাধ্যমে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম দুই দেশ এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ নিল। এর আগে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর নেমে প্রায় প্রতি ডলারে ১৬৪ ইয়েনে পৌঁছায়, যা চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বেসেন্ট বলেন, ‘আমার মতে, এশীয় আর্থিক সংকটের একটি বড় কারণ ছিল অতিরিক্ত দুর্বল ইয়েন। তাই স্থিতিশীল ইয়েন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো এশিয়া অঞ্চলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ইয়েনের দর যদি আরও কমে যেত, তাহলে এশিয়ার অন্যান্য দেশের মুদ্রাও তার প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ত। দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা ওন ইতোমধ্যেই অস্বাভাবিক ওঠানামার মধ্যে রয়েছে।
তার ভাষায়, জাপানের অর্থনীতির আকার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির ভূমিকা এবং বৈশ্বিক সঞ্চয় ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব বিবেচনায় ইয়েনের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, বেসেন্টের বৈশ্বিক সঞ্চয়ের প্রসঙ্গ তোলার পেছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন আশঙ্কা ছিল যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কিন সরকারি বন্ডধারী জাপান এককভাবে ইয়েনকে সমর্থন দিতে গেলে অর্থ জোগাড়ের জন্য মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদের হার আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। কারণ দুর্বল ইয়েন জাপানি রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালের বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী জাপানের প্রতিশ্রুত ৫৫০ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নে এটি সহায়ক হতে পারে।
যৌথ হস্তক্ষেপের আগে কয়েক মাস ধরেই ইয়েনের দর ক্রমাগত কমছিল। যদিও জাপান নিজস্ব উদ্যোগে মুদ্রাটিকে সমর্থন দিতে কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের দরপতনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের বড় ব্যবধান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চ মূল্য এবং প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ব্যয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ। এসব কারণে জাপানের আগেই বিপুল সরকারি ঋণের বোঝা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উভয় দেশই বাজারকে ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা আবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে গত মাসের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ইয়েনের মূল্য প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
তবে বেসেন্ট বলেন, ‘বাজার নানা ধরনের সংকেত দিতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইয়েনের বিনিময় হার নির্ধারণ করবে জাপানের সরকারি নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ এবং অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি।’
এদিকে গোল্ডম্যান স্যাকস-এর গবেষকরা মনে করছেন, জাপানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতি বা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে এই হস্তক্ষেপের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এটি সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি দিতে পারে।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ জাপানের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। বরং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারে অপ্রত্যাশিত অস্থিরতা কমাতে জাপানের সঙ্গে সমন্বয় করাকে তারা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।