বাসস
  ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৭

বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে বিটিএমএ-বিজিএমইএ

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজন করবে বিটিএমএ-বিজিএমইএ। 

এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই সংগঠনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। 

অনুষ্ঠানে বিটিএমএ ও বিজিএমইএর বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা অনুযায়ী, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক মানের ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা)’ আয়োজনের উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।  

এজন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সহযোগিতা নেয়া হবে। প্রদর্শনীতে অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং টেকসই ফ্যাশন শিল্পের সর্বশেষ উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রদর্শনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএর সমান প্রতিনিধিত্বে ১০ সদস্যের একটি যৌথ আয়োজক কমিটি গঠন করা হবে। 

কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে দুই সংগঠনের মধ্যে পরিবর্তিত হবে। প্রথম বছর চেয়ারম্যান হবে বিটিএমএ এবং কো-চেয়ারম্যান হবে বিজিএমইএ থেকে।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বজুড়ে পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও গ্রিন টেকনোলজির দ্রুত বিকাশ ঘটছে। বাংলাদেশকে এ পরিবর্তনের অগ্রভাগে রাখতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএর যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব ও নৈতিক উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প পরস্পর পরিপূরক। এই সমঝোতা শুধু একটি প্রদর্শনী আয়োজনের উদ্যোগ নয়, বরং প্রযুক্তিগত রূপান্তর, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে।

এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করছে সংগঠন দুটি।