শিরোনাম

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম বড় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর মুনাফায় বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সৌদি আরামকো মঙ্গলবার জানায়, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে তাদের নিট আয় হয়েছে ১২২ দশমিক ৬ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সৌদি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি আরামকো বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও তারা তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।
কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন এইচ. নাসের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে নজিরবিহীন বাধা তৈরি হলেও আমরা ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, আরামকোর শক্তিশালী অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন, তেল সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি টার্মিনালের মতো কৌশলগত সম্পদ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ কিছু খরচ ও এককালীন বিষয় বাদ দিলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরামকোর সমন্বিত নিট আয় হয়েছে ১২৫ দশমিক ১ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। যা ১২ জন বিশ্লেষকের ১১৬.৯ বিলিয়ন রিয়ালের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে, তাদের পূর্বাভাস ছিল ১১৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
-তেলের বাজারে বড় মুনাফা
আরামকোর মুনাফা বৃদ্ধির খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধের কারণে তেলের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে বড় তেল কোম্পানিগুলো ‘অতিরিক্ত অর্থ আয় করছে’।
যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিল ও শেভরনের মতো বড় তেল কোম্পানিগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি পছন্দ করি না। তারা অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছে। সরবরাহ সংকটের কারণে তারা অনেক বেশি লাভ করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু, বিশেষ করে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে।
-হরমুজ সংকটেও তেল সরবরাহ বজায় রেখেছে সৌদি আরব-
সৌদি আরব তাদের বিশাল পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প পথে তেল পরিবহন অব্যাহত রাখতে পারায় দেশটির অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগর উপকূলের রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
রিয়াদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জাদওয়া ইনভেস্টমেন্ট জানায়, সৌদি আরবের তেল উৎপাদন জানুয়ারিতে প্রতিদিন ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে এপ্রিলের শুরুতে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে। পরে জুনে তা বেড়ে ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছায়।
আরামকো জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যদিও বিক্রির পরিমাণ কমেছে। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় কোম্পানির তেল পরিশোধন খাতে মুনাফার হারও বেড়েছে।