বাসস
  ২৯ জুলাই ২০২৬, ২০:২২

ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের

ঢাকা, ২৯ জুলাই, (বাসস) : দেশের লেনদেন অবকাঠামো আধুনিকায়ন, বৈদেশি রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ করা এবং ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারের লক্ষ্যে ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) আজ একটি সার্কুলার জারি করেছে।

নতুন কাঠামোর আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রদান করতে পারবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তির অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করা হবে, তাদের জন্য ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) নামে পরিচিত সংরক্ষিত মূল্যভিত্তিক (স্টোরড-ভ্যালু) হিসাব খোলার সুবিধা দিতে পারবে এডি ব্যাংকগুলো।

প্রত্যেকটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালিত একটি মাস্টার ডিভিএ বা সেটেলমেন্ট হিসাবের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং এটি কেবল উপ-হিসাব (সাব-অ্যাকাউন্ট) হিসেবে পরিচালিত হবে। এর ফলে ব্যাংক সব ধরনের লেনদেনের পূর্ণ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারবে।

নতুন কাঠামোর আওতায় দেশের বাসিন্দারা ব্যক্তিগত, চিকিৎসা ও দাপ্তরিক সফরসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহে ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া, প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত আন্তঃসীমান্ত অনলাইন পেমেন্ট করা যাবে।

এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা, ভিসা প্রসেসিং ফি, সদস্যপদ নবায়ন এবং অনলাইন হোটেল বুকিংয়ের অর্থ পরিশোধেও এ হিসাব ব্যবহার করা যাবে।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবের বিপরীতে প্রকৃত বৈদেশিক ব্যবসায়িক ব্যয় নির্বাহে ডিভিএ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা প্রতিপালনের স্বার্থে ব্যাংকগুলোকে ডিভিএ-সংক্রান্ত সব লেনদেনের মিরর লেজার সংরক্ষণ এবং অংশীদার সিডিপিএসপির সঙ্গে রিয়েল-টাইম সিস্টেম সংযোগ স্থাপন করতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ডিভিএতে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এবং বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুযায়ী তা দেশে সমন্বয় করা হবে।

সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কঠোর গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), গ্রাহক যাচাই (সিডিডি) এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) ব্যবস্থা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন এ কাঠামোর আওতায় বৈদেশিক অর্থ প্রেরণ সেবা চালু করতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে পূর্বানুমোদন স্বীকৃতি নিতে হবে।