বাসস
  ২৭ জুলাই ২০২৬, ২০:০৯

আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের নির্মাণ কাজ শুরু, এক লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনকিয়ান বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অংশ নেন। এ সময় কয়েকটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, সিইআইজেডের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি হবে বিনিয়োগ। সিইআইজেডের অগ্রগতি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত। সিইআইজেডের নির্মাণকাজের সূচনা শুধু একটি প্রকল্পের উদ্বোধন নয়, বরং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন ভিত্তি।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চট্টগ্রামে সিইআইজেডের নির্মাণকাজের সূচনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সুফল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 

তিনি বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের ঐকমত্যকে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দিতে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর জুন মাসের বেইজিং ও দালিয়ান সফরের পর ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে নতুন শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ১৪ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে গড়ে উঠছে সিইআইজেড। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ৩০ শতাংশ এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ৭০ শতাংশ মালিকানায় বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বিশ্বমানের শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে সিইআইজেডের সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর আওতায় জেটি, চার লেন সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সাবস্টেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণকাল ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প বিনিয়োগের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বেজা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিইআইজেড বাস্তবায়নের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চট্টগ্রামকে আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।