বাসস
  ২৩ জুলাই ২০২৬, ২০:১১

থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি : পিআইডি

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।  

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপরন চিরাসাওয়াডি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এমন আশা প্রকাশ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং তা পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়লেও এখনো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রাবারজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে থাই বিনিয়োগকে সরকার স্বাগত জানায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের বাজারে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী শুধু পণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়; এটি উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।

তিনি বলেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী থাই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদেরও থাইল্যান্ডের বাজারে দেশীয় পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।