বাসস
  ১২ জুলাই ২০২৬, ১৭:২৩

চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে বিজিএমইএ-ওকাইব বৈঠক

ছবি : বিজিএমইএ

ঢাকা, ১২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, টেকসই শিল্পায়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বিজিএমইএ এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)-এর মধ্যে মতবিনিময় সভা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ সভায় উভয় পক্ষ তৈরি পোশাক ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রেগুলেটরি জটিলতা দূরীকরণ, সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

আজ বিজিএমইএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক ফয়সাল সামাদ, শাহ রাঈদ চৌধুরী, নাফিস-উদ-দৌলা ও রুমানা রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

ওকাইবের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই.সি.-এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি চ্যান, ক্লিফ রেন, লিসা লু, জোয়েল ওং, উপ-সাধারণ সম্পাদক জেসি ইউ এবং নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন ঝাংসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

সভায় চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এগুলো হলোÑ তৈরি পোশাক ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে সরাসরি চীনা বিনিয়োগ ও যৌথ অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ, বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণে সহযোগিতা, কাস্টমস ও বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা দূর করে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, সার্কুলার ফ্যাশন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সবুজ শিল্পায়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।

বৈঠকে ওকাইবের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পুরনো জ্যাকর্ড মেশিন ফেরত নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন সরবরাহে একটি ‘বিনিময় নীতি’ চালুর প্রস্তাব দেন। তবে, কাস্টমস জটিলতা ও প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও তারা তুলে ধরেন।

বিজিএমইএ নেতারা এসব রেগুলেটরি জটিলতা দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও চীনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়াতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার কথাও জানান তারা।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, সংগঠনটি বর্তমানে সার্কুলার অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেশের পোশাক শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম করে তুলবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন উচ্চমূল্য সংযোজিত (হাই-ভ্যালু) এবং টেকসই পোশাক উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করে এ খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।