শিরোনাম

ঢাকা, ২২ মে, ২০২৬ (বাসস): জাপানে মূল্যস্ফীতির হার এপ্রিল মাসে কমে ১ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এ তথ্য জানা গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
পচনশীল খাদ্যপণ্যের অস্থির মূল্য বাদ দিয়ে হিসাব করা ভোক্তা মূল্যস্ফীতি মার্চ মাসে ছিল ১.৮ শতাংশ। এপ্রিল মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১.৪ শতাংশে, যা বাজারের পূর্বাভাস ১.৭ শতাংশের চেয়েও কম।
এ তথ্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে দাম বাড়ছে। এর ফলে জাপানের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের খরচও বাড়ছে।
মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী দ্রুত একটি অতিরিক্ত বাজেট তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন, যাতে ভর্তুকি ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ কমানো যায়।
তবে এপ্রিল মাসে জ্বালানির দাম কিছুটা কমেছে। কারণ সরকার আগের মাস থেকেই জরুরি ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করেছে, যার মাধ্যমে পেট্রোলের দাম কমানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গাড়িচালকদের জন্য কর ছাড়ের সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়, এপ্রিল মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কমে গেছে। একইভাবে ওই অঞ্চল থেকে অন্যান্য জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, আগামী সপ্তাহে সরকার প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন দিতে পারে। এই অর্থ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের বাড়তি চাপ কমাতে ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
যদিও অতিরিক্ত বাজেটের সম্ভাব্য আকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এখনো স্পষ্ট কিছু জানাননি। তিনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের এক শীর্ষ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, অতিরিক্ত বাজেটের পরিমাণ ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে।
বুধবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তাকাইচি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে আমি একটি সম্পূরক বাজেট বিল বিবেচনা করব।’ তিনি বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন।
এরই মধ্যে সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের অর্থনীতি ০.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির হিসাব এখনো ইরান যুদ্ধের পূর্ণ প্রভাব প্রতিফলিত করছে না। ফলে আগামী মাসগুলোতে জাপানের অর্থনীতির ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।