বাসস
  ২১ মে ২০২৬, ২৩:০৯

বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড : হাইকমিশনার

ছবি : বিজিএমইএ

ঢাকা, ২১ মে, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়নে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদানে নিউজিল্যান্ড সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোন কোন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা চায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসা সম্ভব হবে।

আজ রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিজিএমইএ। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রচলিত বাজারের বাইরে নিউজিল্যান্ডের মতো সম্ভাবনাময় নতুন বাজারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ দেশটিতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার ৯৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। এই ব্যবধান কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, পোশাক শিল্পের পাশাপাশি টেক্সটাইল, ফুটওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ফার্নিচার শিল্পের বহুমুখীকরণে কাজ করছে সংগঠনটি। এ খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই রূপান্তরের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং এ খাতে নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ব্যবসাবান্ধব বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিনি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর পিছিয়ে দিতে নিউজিল্যান্ড সরকারের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় ডেভিড পাইন নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এক্সপো ও ট্রেড ফেয়ারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিউজিল্যান্ড সফরে গেলে হাইকমিশন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রচারের প্রস্তাবেও তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ ও নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।