বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৭

শুল্ক আধুনিকায়ন, করের আওতা বৃদ্ধি, কর প্রশাসন ডিজিটালাইজ করা জরুরি : ড. জাইদী সাত্তার

ফাইল ছবি

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)-এর চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেছেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে এবং ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার পথ সুগম করতে শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়ন, করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনকে ডিজিটালাইজ করা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে বাণিজ্য নীতির সামঞ্জস্য বিধান করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেবে, কারণ বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সরকারগুলো সাধারণত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।

আজ বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস: অ্যান ইকোনমিক রিফর্ম এজেন্ডা ফর দ্য ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে পিআরআই চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

ড. জাইদী সাত্তার ১৯৯০ দশকের শুরুর দিকে গৃহীত সংস্কারগুলোর মতো বর্তমান সময়েও সাহসী ও মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য জরুরি কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যা ১৯৯০-৯১ সালের সংস্কার সময়ের সাথে তুলনীয়, যখন দেশ একটি আরও উন্মুক্ত এবং বাজারমুখী অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়েছিল।’

পিআরআই এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড (ডিএফএটি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিন্টন পোবকে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই’র প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট ড. আশিকুর রহমান। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। সমাপনী বক্তব্য দেন পিআরআই পরিচালক ড. আহমদ আহসান।

ড. জাইদী সাত্তার জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

পিআরআই চেয়ারম্যানের মতে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৪ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে এলেও এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাকে প্রতিফলিত করে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে কোনো সংস্কার ছাড়াই অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.৫ থেকে ৬ শতাংশে ফিরতে পারে। তবে সময়োপযোগী ও জোরালো কাঠামোগত সংস্কার করা গেলে প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই বাংলাদেশ আর ‘যেমন চলছে তেমন চলবে’ নীতিতে এগোতে পারবে না।

পিআরআই চেয়ারম্যান বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে (ইপিএ) একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে জাপানের বাজারে বড় ধরনের প্রবেশাধিকার পাবে।

একই সাথে তিনি সতর্ক করেন যে, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভারতের উন্নত বাজার সুবিধা এবং উৎপাদন-ভিত্তিক প্রণোদনা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ বর্তমানে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে।

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে থাকায় তিনি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি এফটিএ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. সাত্তার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর গভীর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, অর্থনৈতিক রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন জরুরি। 

পরিশেষে পিআরআই চেয়ারম্যান রপ্তানি বহুমুখীকরণের সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।