শিরোনাম

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শুক্রবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ‘রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল আমদানি বন্ধ করার অঙ্গিকার করেছে ভারত।’
আদেশটিতে আরও বলা হয়, নয়াদিল্লি এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কিনবে। এছাড়া আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি নতুন রূপরেখাতেও সম্মত হয়েছে ভারত।
ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কার্যকর হবে।
কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে এই শুল্ক কমানোর বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘পারস্পরিক’ শুল্কের হারও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনো শুরু হয়নি।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পৃথক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তির অন্যান্য শর্তাবলী তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কোল (কয়লা) কেনার পরিকল্পনা করছে।
গত বছরের শেষের দিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ছিল ৫০ শতাংশ। নতুন এই চুক্তির ফলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এই তেলের টাকা দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ চালাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে সেই উত্তেজনার অবসান ঘটল।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ও মোদির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক আবারও জোরালো হলো। ট্রাম্প প্রায়ই ভারতের ডানপন্থী এই নেতাকে তার অন্যতম ‘সেরা বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার চলতি সপ্তাহে জানান, শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নেমে আসায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা মার্কিন বাজারে বাড়তি সুবিধা পাবেন। কারণ এই অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার এখনো ১৯ থেকে ২০ শতাংশের ঘরে রয়েছে।