শিরোনাম

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): চলতি (২০২৫-২৬) কর বছরে বুধবার পর্যন্ত ৪০ লক্ষাধিক করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এছাড়া, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ আদেশে এ বছর ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি কর বছরে আগস্টে ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ জন, সেপ্টেম্বরে ৩ লাখ ১ হাজার ৩০২ জন, অক্টোবরে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬ জন, নভেম্বরে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন, ডিসেম্বরে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৮ জন, জানুয়ারি ২০২৬-এ ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৮৭ জন এবং মার্চের প্রথম চার দিনে ৩৬ হাজার ৭০০ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
দাখিলকৃত ই-রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৮ জন পুরুষ এবং ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৩ জন নারী করদাতা রয়েছেন। বেতন খাতে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ জন পুরুষ ও ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫৬৬ জন নারী করদাতা। বাড়ি ভাড়া খাতে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৪ জন পুরুষ এবং ৮৪ হাজার ৪৭৭ জন নারী।
করযোগ্য সীমার নিচে আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩০ জন পুরুষ ও ৭ লাখ ৬৫ হাজার ১৯৭ জন নারী। ৫ লাখ টাকার বেশি কিন্তু ১০ লাখ টাকার কম আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৪ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৭ জন নারী। ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৩ জন পুরুষ ও ৪৭ হাজার ৫৩২ জন নারী। ২০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকার মধ্যে আয় দেখিয়েছেন ৫৪ হাজার ২১২ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৪৫৫ জন নারী। ৪০ লাখ টাকার বেশি আয় দেখিয়েছেন ২৯ হাজার ৮০ জন পুরুষ ও ৫ হাজার ১১৭ জন নারী করদাতা।
সম্পদের পরিমাণ সারচার্জ আরোপযোগ্য হওয়ায় ৩৯ হাজার ৩৬৩ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৬৫ জন নারী করদাতা সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।
এনবিআর জানায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও তারা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা [email protected]এ পাঠিয়ে আবেদন করলে ই-মেইলে ওটিপি ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পেয়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া, ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরাও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনো কাগজপত্র আপলোড ছাড়াই করদাতারা আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য এন্ট্রি করে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারছেন। রিটার্নে ভুল হলে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৬ হাজারের বেশি করদাতা সংশোধিত রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য এনবিআর স্থাপিত কল সেন্টারের নম্বর ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১-এ যোগাযোগ করা যাচ্ছে। এছাড়া www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের eTax Service অপশনের মাধ্যমে লিখিতভাবে সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। সারাদেশের কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্পডেস্ক থেকেও অফিস চলাকালীন সেবা দেওয়া হচ্ছে।
জরিমানা এড়াতে এনবিআর ইতোমধ্যে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের এসএমএস পাঠিয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য সকল করদাতাকে অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।