বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৪

তিনটি কারখানা পেল লিড সনদ এবং একটি কারখানা বিশ্বে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করেছে

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের তিনটি কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে একটি কারখানা বিশ্বে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড লিড ও+এম: এক্সিস্টিং বিল্ডিংস ভি৪ রেটিং সিস্টেমের আওতায় ১০৮ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে, যা এই ক্যাটাগরিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বে সর্বোচ্চ স্কোর।

এ ছাড়াও গাজীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নে অবস্থিত ইকোট্রিমস বাংলাদেশ লিমিটেড-ইউনিট ১ লিড ও+এম: এক্সিস্টিং বিল্ডিংস ভি৪.১ রেটিং সিস্টেমের আওতায় ৭০ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড-ইউনিট ১ লিড বিডি+সি:নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ রেটিং সিস্টেমের আওতায় ৬৫ পয়েন্ট অর্জন করে গোল্ড সনদ পেয়েছে।

এই তিনটি কারখানা যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশে লিড সনদপ্রাপ্ত তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৩-এ। এর মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম ও ১৩৯টি গোল্ড সনদপ্রাপ্ত কারখানা রয়েছে।

বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়েও বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সর্বোচ্চ রেটপ্রাপ্ত লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে ৬৯টি বাংলাদেশে অবস্থিত, যা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে দেশের নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। 

বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ইউএসজিবিসি থেকে ১১০-এর মধ্যে ১০৮ স্কোর অর্জনের মাধ্যমে লিড প্লাটিনাম সনদ পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে এবং এটি বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটপ্রাপ্ত লিড সনদপ্রাপ্ত আরএমজি কারখানা।

তিনি বলেন, জলবায়ু দায়বদ্ধতা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং ইএসজি মানদণ্ডে বৈশ্বিক নজরদারির প্রেক্ষাপটে এমন অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুযায়ী পরিবেশগত উৎকর্ষের সর্বোচ্চ স্তরকে নির্দেশ করে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ, কার্বন নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় টেকসই নেতৃত্বই শিল্পখাতের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করবে উল্লেখ করে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক বলেন, ‘এ ধরনের অর্জন প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ শুধু বৈশ্বিক প্রত্যাশার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে না, বরং সেগুলো গঠনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।’