বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩২

৩০ হাজার টন সার ও ২ কোটি ৭১ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার এবং ২ কোটি ৭১ লাখ লিটারের বেশি সয়াবিন তেল ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।

অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বছরের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩য় সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে, পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে কানাডার এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস থেকে প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল সংগ্রহের সুপারিশ করেছে কমিটি। যার প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৩১.৪৯ টাকা।

এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১তম লটের আওতায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করার একটি প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৪৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। যার প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৪০৫ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার।

গুরুত্বপূর্ণ এই আমদানি প্রস্তাবগুলোর পাশাপাশি কমিটি আরও কয়েকটি বিষয় ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-ফরিদপুর ও গাইবান্ধায় সার বাফার গুদাম নির্মাণ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য উচ্চগতির নৌযান ক্রয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প।

সভায় ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ-২ এর আওতায় ফরিদপুরে প্রায় ৪৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতার একটি সার গুদাম নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একই প্রকল্পের প্যাকেজ-৪, লট-৪ এর আওতায় গাইবান্ধায় প্রায় ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতার আরেকটি সার গুদাম নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য প্রায় ৮৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে উচ্চ-গতির দুটি বৃহৎ নৌযান ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। একইসঙ্গে ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি’ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।