বাসস
  ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৭

বাজার চাহিদার ভিত্তিতেই বিমানের বোয়িং ক্রয় : সিইও

মো. তানজিম আনোয়ার

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমান বলেছেন, বাজারের চাহিদা ও অপারেশনাল-ব্যবসায়িক প্রয়োজনের ভিত্তিতেই ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই ।

আজ শনিবার বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বহরের সামঞ্জস্যতা, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা, অর্থায়নের বিকল্প, সরবরাহ সূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

ড. মো. সাফিকুর রহমান জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) উড়োজাহাজ ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এবং বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।

বিমানের প্রধান নির্বাহী জানান, অনুমোদনের আওতায় আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিষয়টি রয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানের কৌশলগত পরিকল্পনা বাজার চাহিদা ও কার্যক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেটওয়ার্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রবাসী ও ব্যবসায়িক চাহিদা বেশি এমন রুটে সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে বহর সম্প্রসারণ বিমানের অন্যতম অগ্রাধিকার, কারণ এ অঞ্চলে রেমিট্যান্স প্রবাহ, ট্রানজিট যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বেশি। বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই ও বহর পরিকল্পনার ভিত্তিতে নতুন রুট ধাপে ধাপে চালু করা হবে।

নিজের অর্জন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ড. সাফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতের চ্যালেঞ্জিং সময়ে আর্থিক শৃঙ্খলা ও অপারেশনাল স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা তার মেয়াদের অন্যতম বড় সাফল্য। 

তিনি বলেন, টেকসই মুনাফা অর্জন, নিরবচ্ছিন্ন ফ্লাইট পরিচালনা, উড়োজাহাজের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা-এসবই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। একটি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার জন্য সম্প্রসারণের মতোই স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উচ্চ ভাড়া ও কম যাত্রীসংখ্যা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, অতীতে টিকিট বিক্রিতে সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি ও স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে স্বচ্ছ অনলাইন টিকিটিং, উন্নত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি সমন্বয় করা হয়েছে।

বিমানের সাম্প্রতিক রেকর্ড মুনাফা সম্পর্কে তিনি বলেন, কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বহরের দক্ষ ব্যবহার, রুট যৌক্তিককরণ ও শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মতো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। এতে পরিচালনা পর্ষদ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও ছিল।

তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যবহার অপ্টিমাইজ করা হয়েছে, সেবা চুক্তি পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় অপারেশনাল ক্ষতি কমানো হয়েছে এবং আর্থিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা পুনরুদ্ধার ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সক্ষমতা পরিকল্পনাও ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।

জেট ফুয়েলের বকেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বহু বছরের একটি পুরোনো সমস্যা। দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত না করে কাঠামোবদ্ধভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে মাসে ২৫ কোটি টাকা করে পরিশোধের পাশাপাশি নগদ ভিত্তিতে জ্বালানি কেনা হচ্ছে।

ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ননস্টপ সার্ভিস যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় করবে এবং দুবাই, দোহা ও শারজাহ হয়ে দীর্ঘ ট্রানজিটের ভোগান্তি কমবে। 

তিনি জানান, সরাসরি ঢাকা-করাচি ফ্লাইটে যাত্রা সময় ১৩ ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় নেমে আসবে।

বিমান কর্মকর্তারা জানান, পুনরায় চালু হওয়া ঢাকা-করাচি রুটটি প্রাথমিকভাবে ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৌশলগত পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। এ সময় যাত্রী চাহিদা, লোড ফ্যাক্টর ও বাণিজ্যিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে স্থায়িত্ব বা ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, টানা লোকসান ও যাত্রী স্বল্পতার কারণে ২০১২ সালে এ রুটে ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছিল। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া শিক্ষা সতর্কভাবে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজে দেবে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।