বাসস
  ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৮

ব্যাংক খাত সংস্কার ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় : সিপিডি

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন আজ বলেছেন, ব্যাংক খাত সংস্কার ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। ঋণখেলাপি কমাতে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংক রেজুলেশন আইন বাস্তবায়ন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে আনতে হবে, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। 

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আজ শনিবার সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং প্রবাসী আয় ধরে রাখার কৌশল ছাড়া ভবিষ্যৎ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সামনে অনেক সুযোগ রয়েছে, একই সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। অর্থাৎ একটা মিশ্র অবস্থায় রয়েছি। রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত-এই পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনীতির যে গতিময়তা, সেটা আবার ফিরে পাবে এবং মানুষের মাঝে আস্থা ফিরে আসবে।

নির্বাচিত সরকারকে ব্যাংক খাতের সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নতুন সরকারের সময়ে সংস্কার কার্যক্রম যেন থেমে না যায়।

সংস্কার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। ব্যাংক খাত নিয়ে স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। 

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিসেম্বর ২০২৫-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৪৯ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক দাম কমলেও দেশের বাজারে তার সুফল প্রতিফলিত হয়নি। মজুতদারি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব মূল্যস্ফীতিকে কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত করেছে। শুধু সুদের হার বাড়িয়ে নয়, বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই কৌশলগত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আবারও গতিশীলতা ফিরে পাবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো-তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সঠিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে এই মানবসম্পদই দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে।