বাসস
  ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১৩
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:০৯

সুন্দরবনের দুয়ার খুলে দেওয়ায় জেলে-বাওয়ালী ও পর্যটকরা উচ্ছসিত

ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ মৌসুমকে সামনে রেখে দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল বনজীবী ও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। 

গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি (পাস পারমিট) পেয়ে জেলে-বাওয়ালিরা উচ্ছসিত হলেও ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের বনের ভিতর যাওয়া অনেকটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে আজ বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত গত দুই দিনে ৫০৪টি পাস পারমিটের বিপরীতে ১ হাজার ৪৬৫ জন জেলে-বাওয়ালী মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। 

সুন্দরবনের ভিতরে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বনবিভাগ।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে প্রায় তিন হাজার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নবায়ন করা হয়েছে।

এরইমধ্যে একই সময়ে ৫টি পাস পারমিটের বিপরীতে ৪৮ জন পর্যটক সুন্দবনের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করার বনের ভিতরে প্রবেশ করেছেন। ইতিমধ্যে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।

শ্যামনগরের জেলে শহিদুল ইসলাম বাসসকে জানান, এতোদিন পাস বন্ধ থাকায় তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। পাস পেয়েছি এবার বনে মাছ ধরে সংসার চালাতে হবে। তবে, বনের ভিতরে তাদের কিছুটা হলেও বনদস্যু আতংক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান জানান, তিন মাস পর পাস পেয়েছেন তারা। এতে খুবই খুশি তারা। ইতিমধ্যে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে তারা রওয়ানা হয়েছেন।

পর্যটক ইমরান হোসেন জানান, সুন্দরবনের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারা এসেছেন। পাস নিয়ে ইতোমধ্যে সুন্দরবনের ভিতরে যাত্রাও শুরু করেছেন।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মশিউর রহমান বাসস’কে বলেন, দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য পাস উন্মুক্ত করা হয়েছে। গতকাল এবং আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫০৪টি পাস পারমিটের বিপরীতে ১ হাজার ৪৬৫ জন জেলে-বাওয়ালী মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। এছাড়া একই সময়ে ৫ টি পাসের বিপরীতে ৪৮ জন পর্যটক সুন্দবনের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করার বনে প্রবেশ করেছেন। 
তিনি আরো জানান, পর্যটকদের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র গুলোপ্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। 

সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে এ কর্মকর্ত আরো জানান, বনবিভাগ ও কোস্ট গার্ডের যৌথ টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছরের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে।