শিরোনাম

-আবু নাঈম
পঞ্চগড়, ৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী মির্জাপুর শাহী মসজিদ। প্রায় সাড়ে তিনশ’ বছরের পুরনো এই মসজিদটির ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও লোককথার কারণে এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসের এই স্থাপনাটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থী ও পর্যটকরা এখানে আসেন।
আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে মির্জাপুর শাহী মসজিদ। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থানই নয় বরং ঐতিহ্য ও ইতিহাসের স্মারক হিসেবেও সমাদৃত।
মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সাল বা তারিখ লিখিত নেই। তবে মসজিদে পাওয়া ফারসি ভাষার শিলালিপি বিশ্লেষণ করে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করেন। এটি সম্ভবত ১৬৫৬ সালের দিকে নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘল শাসক শাহ সুজার শাসনামলেই মসজিদটি নির্মিত হয়।
মসজিদটি কে নির্মাণ করেছেন তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, মির্জাপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মালিক উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি এর নির্মাণকাজ শেষ করেছিলেন।
স্থাপত্য-শৈলীর দিক থেকেও মসজিদটি বেশ আকর্ষণীয়। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। সামনের দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নকশা ও কারুকাজ, যা মুঘল আমলের স্থাপত্যরীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মসজিদের ওপরে একই সারিতে তিনটি গম্বুজ রয়েছে এবং প্রতিটি কোণায় একটি করে মিনার আছে।
লোক কাহিনী অনুযায়ী, এক সময় ভূমিকম্পে মসজিদটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ইরান থেকে কারিগর এনে মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বাসস’কে বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই মসজিদে নামাজ পড়ে আসছি। এটি শুধু আমাদের এলাকার ঐতিহ্য নয়। পঞ্চগড়ের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। প্রতিনিয়তই দুর-দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসে।
মসজিদটি দেখতে আসা দর্শনার্থী সাকিব ইসলাম বলেন, মুঘল আমলের এত পুরনো একটি মসজিদ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ। ইতিহাসের এই নিদর্শনটি দেখতে এসে ভালো লেগেছে।
মিজানুর রহমান নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও লোক কাহিনীর সমন্বয়ে মির্জাপুর শাহী মসজিদ পঞ্চগড়ের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি গুরুত্ব নিয়ে টিকে থাকবে।
আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, মির্জাপুর শাহী মসজিদ আমাদের উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে রমজান মাসে সেখানে পর্যটক সমাগম বেড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃংখলা যেন ঠিক থাকে, এজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।